পাইকগাছা(খুলনা):
খুলনার পাইকগাছার কপিলমুনির বিধবা রাশিদা বেগম (৩৮) হত্যার ২০ দিন অতিবাহিত হলেও ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তাছাড়া মামলায় আটক একমাত্র আসামী রাশিদার দেবর মহিদুল গাজী (৪২) পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার ব্যাপারে কোন তথ্য দেয়নি। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ মনিরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এজাহারে বর্ণনা ও পুলিশের সুরোতহাল রিপোর্টে হত্যার বিষয়ে যথেষ্ট প্রমান থাকা সত্ত্বেও পুলিশ দাবি, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া যাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে? নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছে। আর তখনই মামলার তদন্তে গতি পাবে বলেও দাবি পুলিশের।
এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রের দাবি, তাকে কেউ হত্যা শেষে নিজ বাড়ির উঠানের লিচু গাছে লাশ ঝুলিয়ে রেখে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চাইছে। এমনকি পুলিশের সুরোতহাল রিপোর্টেও বিষয়টি খানিকটা হলেও নিশ্চিত করা হয়েছে। যদিও ঘটনার দিন সকালে হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে নিহতের দেবর মহিদুল গাজী (৪২) কে তার বাড়ি থেকে আটকের পর বাড়ির সামনে একটি বৈদ্যুতক পিলারের সাথে বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা।
এরপর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক দেখিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোর্পদ করে। যার মামলা নং-৭। উদ্বুধ মামলা নং ১২/২৫।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন যদি রাশিদাকে হত্যা করা হয় এবং ঘটনায় আটক দেবর মহিদুল নির্দোষ হয়, তাহলে ঘটনায় জড়িত কে বা কারা? তাছাড়া রাশিদা হত্যার শিকার হোক কিংবা আত্মহত্যা করুক! মহিদুলকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করারই বা কারণ কি? রাশিদার সাথে তার সম্পর্কটাই বা কি? কিংবা কিসের ভিত্তিতে মহিদুলকে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করে পুলিশে দেওয়া হল? আর তারা কারা? ঘটনার শিকার রাশিদা কিংবা মহিদুলের সাথে তাদের সম্পর্কটাই বা কিসের?
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রিমান্ড শেষে যেহেতু ময়নাতদন্তের জন্য অপেক্ষা করছেন সেহেতু মহিদুলের জড়িত না থাকার ব্যাপারে তার কিছুটা বিশ্বাস জন্মেছে কিংবা রাশিদা আত্মহত্যা করেছে বলে মনে করছেন। এমন সব নানা প্রশ্ন এলাকাবাসীর মনে বার বার ঘুরপাক খাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতের যেকোন সময় উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের কাশিমনগর গ্রামের মৃত এনামুল গাজীর স্ত্রী রাশিদা বেগম (৩৮) কে নির্যাতন শেষে হত্যার পর তার লাশ নিজ বাড়ির লিচু গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। সকাল ৭ টার পর পরিবারের লোকজন তার ঝুলন্ত লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয়। এছাড়া ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাশিদার আপন দেবর মহিদুল গাজী (৪২) কে আটক করে মারপিট দিয়ে বৈদ্যুতিক পিলারে বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা।
পরে ঘটনায় নিহতের ছেলে রিফাত গাজী বাদী হয়ে আপন চাচা মহিদুল গাজী (৩৮) সহ অজ্ঞাত পরিচয় আরোও ২ জনসহ মোট ৩ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করে। যার নং-৭। ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড।
খবর পেয়ে ঐ দিন সকাল ৮ টার দিকে স্থানীয় কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম এস আই সবুর সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল থেকে রাশিদার লাশ উদ্ধারের পর সুরোতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
যদিও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মনিরুল ইসলাম ঐদিন সাংবাদিকদের জানান, নিহত রাশিদার গোপনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে স্পট পাওয়া গিয়েছে। আটক দেবর মহিদুলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততা থাকার বিষয়ে কোন তথ্য না দেওয়ায় ৩ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
এরপর শুনানীতে তার দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর হলে দুদিনের রিমান্ড শেষে গত বুধবার তাকে ফের আদালতে সোর্পদ করা হয়। তবে ফের তার রিমান্ড আবেদন করেননি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
নিহতের ছেলে রিফাত গাজী জানায়, ঘটনার সময় সে বরিশালের একটি ইটের ভাটায় শ্রমিকের কাজে গিয়েছ। সেখানে অবস্থানকালে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার দিন শনিবার রাতে বাড়ীতে ছোট বোন তাসমিরা খাতুন ও তার মা এক ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। ভোর রাত আনুমানিক ৪ টার দিকে তার ছোট চাচা মফিজুল গাজী ওরফে মহিদুল তার মা রাশিদা’কে ডেকে ঘরের বাইরে নিয়ে বাইরে থেকে দরজা আটকে দেয়। এরপর আর সে ফেরেনি। এরপর সকালে স্থানীয়রা বাড়ীর উঠানে লাগানো লিছু গাছে গলাঁয় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় তার মায়ের লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয়। তার অভিযোগ, জমি-জমা সংক্রান্তে বিরোধে পরিকল্পিতভাবে তার মা’কে হত্যা করা হয়েছে।