সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬

কেরানীগঞ্জে মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ: কক্ষের দেয়াল উড়ে গেল, উদ্ধার বোমা তৈরির সরঞ্জাম

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৫-১২-২৭ ২৩:১৭:০১
ছবি: সংগৃহীত।

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার একতলা ভবনের পশ্চিম পাশের দুটি কক্ষে বিস্ফোরণ হয়। এতে নারী ও শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় মাদ্রাসার কক্ষগুলোর দেয়াল উড়ে যায়, জানালার কাচ ভেঙে পড়ে এবং আসবাবপত্র ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আশপাশের এলাকায় কাচ ও ইটের টুকরা ছড়িয়ে পড়ে। পাশের একটি ভবনও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে ককটেল, কথিত পাইপ বোমা, বোমা তৈরির কাঁচামাল, রাসায়নিক দ্রব্য, বৈদ্যুতিক ড্রিল মেশিন, হাতুড়ি, শর্টগানের সীসা গুলি, স্পাই ক্যামেরা, হ্যান্ডকাপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। উদ্ধার করা ককটেলগুলো পরে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঝিলমিল এলাকার একটি ফাঁকা স্থানে নিষ্ক্রিয় করে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) জানান, ঘটনাস্থলে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ও ক্রাইম সিন ইউনিট কাজ করছে। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সিএনজি চালক জাকির হোসেন জানান, হঠাৎ বিকট শব্দের পর একটি শক্ত বস্তু তার মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে তাকে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভবনের মালিক পারভিন বেগম জানান, ২০২২ সালে ভবনটির নির্মাণ শেষ হয়। পরে মুফতি হারুন নামের এক ব্যক্তি মাদ্রাসা পরিচালনার জন্য এটি ভাড়া নেন। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মাদ্রাসা কার্যক্রম চলছিল।
বিস্ফোরণে আহতদের মধ্যে রয়েছেন মাদ্রাসা শিক্ষক আলামিনের দুই ছেলে উমায়েদ (১০) ও আবদুল্লাহ (৮), মেয়ে রাবেয়া (৬) এবং সিএনজি গ্যারেজের শ্রমিক জাকির হোসেন (৪৫)। আহতদের চিকিৎসা চলছে।

কী-ওয়ার্ডসঃকেরানীগঞ্জ বিস্ফোরণ,মাদ্রাসা দুর্ঘটনা,বোমা সরঞ্জাম উদ্ধার


এ জাতীয় আরো খবর