ফুকুশিমা পারমাণবিক দুর্ঘটনার দেড় দশক পর জাপান আবারও পারমাণবিক বিদ্যুতে ফেরার বড় সিদ্ধান্তের সামনে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া প্ল্যান্ট পুনরায় চালুর প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটি। রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি জানিয়েছে, নিয়িগাতা প্রিফেকচারের স্থানীয় সমিতির অনুমোদন পেলে সোমবার থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর জাপানের সব ৫৪টি রিয়েক্টর ধাপে ধাপে বন্ধ করে দেওয়া হয়। টোকিও থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া কেন্দ্রটি পুনরায় চালু হলে তা হবে জাপানের পারমাণবিক শক্তি পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ।
টেপকোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাতটি রিয়েক্টরের মধ্যে প্রথমটি আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে চালু করা হতে পারে। স্থানীয়দের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে আগামী ১০ বছরে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সংস্থাটি। তবে জনমনে সংশয় এখনো কাটেনি। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ স্থানীয় বাসিন্দা মনে করেন পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হয়নি, আর প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ টেপকোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
নিয়িগাতার গভর্নর হিদেয়ো হানাজুমি এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে পারমাণবিক শক্তি জরুরি। তবে ফুকুশিমা দুর্ঘটনার পর বাস্তুচ্যুত অনেক নাগরিক এখনো ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন। তাদের একজন আয়াকো ওগা বলেন, নতুন করে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
প্ল্যান্টটি চালু হলে টোকিও অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় ২ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে এআই ডেটা সেন্টারের বাড়তি চাহিদা পূরণ এবং জাপানের কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা মিলবে। সরকার ২০৪০ সালের মধ্যে জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তির অংশ দ্বিগুণ করে ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সেই পথে কাশিওয়াজাকি-কারিওয়ার পুনঃচালু কার্যক্রমকে জাপানের জ্বালানি নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কীওয়ার্ডসঃজাপান পারমাণবিক বিদ্যুৎ,কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া,ফুকুশিমা পরবর্তী জ্বালানি নীতি