মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫

হালাল জীবন,সত্যের আলো ও দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্ব-দারুল কোরআন মাহফিলে আসজাদ মাদানীর নসিহত

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-১১-২৩ ২৩:১৮:০৭

আজ ২৩ নভেম্বর রোববার বাদ মাগরিব প্রধান মেহমান হিসেবে আওলাদে রাসুল (সা.) ও ভারতের দেওবন্দের প্রখ্যাত আলেম সাইয়িদ হাসান আসজাদ মাদানী রাজধানীর উত্তরা মাঝিবাড়ি এলাকায় অবস্থিত দারুল কোরআন মাদরাসায় এক বিশেষ ধর্মীয় বয়ানে অংশ নেন।বয়ানে তিনি মিথ্যা না বলা,হালাল আয় ও হালাল খাবার গ্রহণ করার ওপর আলোকপাত করেন।বক্তব্যে তিনি মহান রাব্বুল আলামিনের প্রশসা করে বলেন- আলহামদুলিল্লাহ, সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের যিনি আমাদেরকে হিদায়াতের পথে পরিচালিত করেন এবং তাঁর দ্বীনের দাওয়াত গ্রহণের তাওফিক দান করেন। দরুদ ও সালাম প্রেরিত হোক মানবতার মুক্তির দিশারী, সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–এর প্রতি, যাঁর জীবনই আমাদের জন্য পরিপূর্ণ আদর্শ।
আজ এই দ্বীনি মাহফিলে উপস্থিত হতে পেরে আমি আন্তরিকভাবে আনন্দিত। এ অঞ্চলের মানুষ যে উত্তরা মাঝিবাড়ি এলাকার দারুল কোরআন মাদরাসাকে কেন্দ্র করে দ্বীন শেখা ও দ্বীন বোঝার চেষ্টা করছেন, তা নিঃসন্দেহে একটি সুখবর। আমি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
প্রিয় মুসল্লিগণ, দ্বীনের পথে চলতে চাইলে আমাদের জীবনে তিনটি বিষয় অত্যন্ত জরুরি- 'সত্যবাদিতা, হালাল উপার্জন এবং হালাল আহার'। আল্লাহ তায়ালা কোরআনে ঘোষণা করেছেন, 'হে মুমিনগণ! তোমরা হালাল ও পবিত্র বস্তু ভক্ষণ করো।হাদিসে নবী করিম (সা.) স্পষ্টভাবে বলেছেন, 'যে দেহ হালাল আহারে গঠিত হয়, তাকে জান্নাতের পথ সুগম করে দেওয়া হয়। আর হারামের দ্বারা গঠিত দেহ কখনো জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। তাই হালাল-হারাম সম্পর্কে আমাদের সচেতনতা শুধুমাত্র দুনিয়ার জন্য নয়, আখেরাতের সফলতার পূর্বশর্ত।'
তিনি বলেন- মিথ্যা কথাকে ইসলাম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। একজন মুমিন কখনো মিথ্যাবাদী হতে পারে না। মিথ্যা শুধু একটি পাপই নয়, এটি অন্যান্য পাপের দরজা খুলে দেয়। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র-সব ক্ষেত্রেই সত্যবাদিতা স্থায়ী শান্তি এনে দেয়।
তিনি তার বক্তব্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেন।সেটি হলো 'সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষা'। তিনি বলেন-তারা আমাদের আমানত। তাদেরকে যদি দুনিয়ার সঙ্গে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান না দেই, ভবিষ্যতে তারা নিজেদের ও সমাজের জন্য কল্যাণের পথ খুঁজে পাবে না। তাই শিশুদের কোরআন, আকিদা, আখলাক ও দ্বীনের মৌলিক শিক্ষা দেওয়া অভিভাবকদের প্রধান দায়িত্ব। দ্বীনি শিক্ষা বঞ্চিত একটি প্রজন্ম কোনোদিন প্রকৃত মানুষ হতে পারে না।
আমি আল্লাহর দরবারে দোয়া করি-আমাদের সকলের জীবন হালাল ও পবিত্র পথে পরিচালিত হোক, সন্তানদের অন্তরে দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হোক, এবং আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সত্যের পথে চলার তাওফিক পাক। এই মাহফিল যেন আমাদের আমলের ক্ষেত্রকে আরও সুগঠিত করে তোলে এবং শেষ পরিণতি যেন হয় জান্নাতুল ফেরদৌস।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমিন।এরপর তিনি দোয়া পরিচালনা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মাদরাসার ৪ জন হাফেজকে তিনি পাগড়ী পরিয়ে দেন। 
মাহফিলে স্থানীয় মুসল্লি ও ধর্মপ্রাণ মানুষদজন এলাকার নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অংশ নেন ।
মাহফিলে বিভিন্ন ওলামায়ে কেরামগণ বয়ান করেন।সভাপতিত্ব করেন গাজী আবুল কাশেম এবং সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন মাদরাসার মুহতামিম মুফতি যোবায়ের আহমদ চাঁদপুরী ।

 


এ জাতীয় আরো খবর