অন্তর্বর্তী সরকারের জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে দেশে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক রাজনৈতিক দল যৌথভাবে অভিযোগ করেছে, সরকার এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতিকে বিভক্ত করছে এবং সংবিধানবিরোধীভাবে গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ নিচ্ছে।
রবিবার (২ নভেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে জনতা পার্টি বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার মিলন, মহাসচিব শওকত মাহমুদ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি মহসীন রশিদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালু ও জাগপার সভাপতি মহিউদ্দিন বাবলু এ মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো সাংবিধানিক সংস্কার আদেশ জারি করার এখতিয়ার বর্তমান সরকারের নেই। এটি একমাত্র রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার। এ বিষয়ে বিএনপির সংবিধানসম্মত অবস্থান আমরা সমর্থন করি, যদিও তাদের অতিরিক্ত আস্থা বর্তমান সংকটের একটি কারণ।”
নেতারা দাবি করেন, ঐকমত্য কমিশনের বিতর্কিত প্রস্তাবগুলো আসলে অন্তর্বর্তী সরকারেরই পরিকল্পনা। কমিশনের রিপোর্টে সরকার প্রধানের স্বাক্ষর থাকায় এটি সরকারের অবস্থান প্রতিফলিত করছে। তারা প্রশ্ন তোলেন, 'যেহেতু সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রত্যাশী, তাহলে তাদের অধীনে একটি নিরপেক্ষ ভোট আয়োজন কতটা সম্ভব?'
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিএনপি ইতিমধ্যে প্রস্তাব দিয়েছে কেয়ারটেকার ধাঁচের নির্বাচনী সরকারে ফেরার। তবে ড. ইউনুসের উপদেষ্টা পরিষদ জানিয়েছে, বর্তমান সরকারই নির্বাচন পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে।
নেতারা সতর্ক করে বলেন, 'জুলাই সনদ যদিও অল্প কিছু দলের অংশগ্রহণে স্বাক্ষরিত,তবে এর রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। তবে অনির্বাচিতদের মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন গণতন্ত্রের জন্য কু-নজির তৈরি করবে।'