শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে ১৯১ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড,আক্রান্ত আমনসহ সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমির ফসল

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৫-১১-০১ ১৮:৩৩:৩২

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্মরণাতীতকালের মধ্যে একদিনের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত শুক্রবার(৩১ অক্টোবর) সকাল থেকে শনিবার(১ নভেম্বর) সকাল পর্যন্ত  ২৪ ঘন্টায় জেলায় গড়ে ১৯১ মিলিমিটার  বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে কৃষি বিভাগ। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৬০ মিমি, শিবগঞ্জে ১৭৫ মিমি, গোমস্তাপুরে ১৮০ মিমি, নাচোলে ১৭৫ মিমি এবং ভোলাহাট উপজেলায় ১৬৫ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।  সর্বাধিক বৃষ্টি হয়েছে গত শুক্রবার দিবাগত রাতব্যাপী। জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, তাদের কাছে ২০০৩ সাল থেকে জেলার বৃষ্টিপাতের  নিয়মিত হালনাগাদ করা যে পরিসংখ্যান রয়েছে তাতে  বিগত ২৩ বছরে একদিনে এই পরিমান বৃষ্টির কোন তথ্য পাওয়া যায় নি।
এদিকে এই বৃষ্টিতে জেলায় পাকতে শুরু করা রোপা আমন, আলু,সরিষা, শাক-সবজি,পেঁয়াজ, মাসকলাই, স্ট্রবেরি, ভুট্টা, রসুন সহ অনান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ এবং কৃষকরা। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে জেলা শহর সহ গ্রামাঞ্চল ও ফসলি জমি জুৃড়ে।  এ পানি পুরোপুরি নামতে কয়েকদিন সময় লাগবে। ক্ষতিগ্রওস্থ  কাঁচা বাড়িঘর,ভেঙ্গে গেছে সড়ক।শিবগঞ্জে একটি ছোট গ্রামীন সেতু পানির তোড়ে ভেঙ্গে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।   ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষক সহ সর্বস্তরের মানুষ।
জেলা কৃর্ষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উৃপ-পরিচালক ড. ইয়াসিন আলী বলেন, এই সময়ে একদিনে এত বৃষ্টি কোন ফসলের জন্যই লাভজনক নয়।   এমনকি বছরের যে কোন সময় এর কোন রেকর্ডও এখন পর্যন্ত নথিপত্র ঘেঁটে পাওয়্ াযায় নি। কৃষি বিভাগ প্রাথমিক একটি রিপোর্ট তৈরী করেছে। জেলাব্যাপী এই অতিবৃষ্টিতে ৪ হাজার ৪৫৯ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে ২ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে পেকে ওঠা আমন। হেলে ও শুয়ে গেছে অনেক জমির ধান। নিজজ্জিত  হয়েূছে পানিতে।  এই বৃষ্টির কারণে আসন্ন রবি মৌসুমেও  ক্ষতির শিকার হবেন কৃষকরা। রবি শষ্য বিলম্বিত হবে। যে সব জমিতে সরিষা বুনা হয়েছে তা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কয়েকদিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত  ক্ষতির প্রতিবেদন তৈরী করা হবে।
নাচোল উপজেলা কৃষি কর্মূকর্তা সলেহ আকরাম বলেন, রুক্ষ  পানি সংকটাপ্নœ ঠাঁ ঠাঁ বরেন্দ্রাঞ্চল নাচোলে একদিনে এত বৃষ্টি পূর্বে হয়নি। বৃষ্টিতে নীচু অঞ্চলের জমির ক্ষতি হয়েছে বশেী। খঁড়ির মুখগুলো ভেসে গেছে। পানি নামতে সময় লাগবে। উঁচু জমির পানি নীচু জমিতে এসে জমা হচ্ছে।
সদর উপজেলার বিদিরপুর গ্রামের  কৃষক খালেদ হোসেন(৪৫) বলেন, কয়েদিন আগেই পানির অভাবে জমিতে পানি দিল কৃষকরা। এখন টানা তিনদিনের বৃষ্টির পর পানি কেটে বের করতে হচ্ছে। নীচু বা বিলাঞ্চলের  ধানী জমির উপর দিয়ে ¤্রােত বইছে। ৯৪,সুমন স্বর্ণা, আগাম ৫১ জাতের ধানের ক্ষতি হবে। ডুবে যাওয়া  অনেক ধান নষ্ট হবে। 


এ জাতীয় আরো খবর