সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬

শিক্ষকতার আসনে অপমান,নারী নির্যাতনের অভিযোগে জনতার রোষে শিক্ষক ফারুক গণপিটুনির শিকার

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের
  • ২০২৫-১০-২৬ ২২:১৫:২১

মহেশখালী কক্সবাজার 
মহেশখালী উপজেলা শাপলাপুর ষাইটমারা মহিউসুন্নাহ মাদ্রাসায় শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থী ও নারী অভিভাবককে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতা কতৃক শিক্ষক ওমর ফারুক  গণপিটুনির শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ উদ্ধার করেন শিক্ষক ওমর ফারুকে।
ঘটনাটি ঘটেছে ২৬ অক্টোবর (রবিবার) দুপুর ১২টার দিকে। ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল বেলা ক্লাস শুরু হলে শিক্ষক ওমর ফারুক নিয়মিত পাঠদান না করে অফিস কক্ষে বসে আড্ডায় সময় কাটান বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি সুপারিন্টেন্ডেন্ট নেজাম উদ্দিন বরাবর জানাতে গেলে শিক্ষক ওমার ফারুক  ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন।
পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরলে এক নারী অভিভাবক ছেনুআরা (৩৫) মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক ফারুকের কাছে জানতে চাইলে তিনি কটূক্তি করে লাথি-ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি চকরিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনার পরপরই এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিভাবক ও এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে ওমর ফারুককে গণপিটুনি দেয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। 
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষক ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে আগেও নারী উত্ত্যক্ত, অসদাচরণ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের একাধিক বিয়ের অভিযোগ রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলাও আছে।
স্থানীয় নুরুল কাদের বলেন-“একজন শিক্ষক হয়ে এভাবে শিশু শিক্ষার্থীকে মারধর করা, নারী অভিভাবককে লাঞ্ছিত করা শিক্ষকের পরিচয় বহন করে না। তিনি বারবার অপরাধ করে পার পেয়ে গেছেন বলে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এবার আর রেহাই দেওয়া যাবে না। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিচার চাই।”
ক্ষুব্ধ স্থানীয় অভিভাবক ফজল কাদের বলেন-“ওমর ফারুকের মতো চরিত্রহীন লোক মাদ্রাসায় শিক্ষকতার আসনে থাকা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি অপমান। এমন ব্যক্তিকে শিক্ষক রাখতে দেওয়া মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নষ্ট করা। আমরা তাকে অবিলম্বে চাকরি থেকে বহিষ্কার এবং আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি করছি।”
ব্যবসায়িক আব্দু শুক্কুর জানান  “এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি। যদি প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে ক্ষোভ আরও বাড়বে। আমরা চাই তাকে স্থায়ীভাবে শিক্ষকতার অযোগ্য ঘোষণা করা হোক।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওমর ফারুকের বক্তব্যের জন্য মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গেলে, বক্তব্য দিতে রাজি নন তিনি।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নেজাম উদ্দিনও একই দাবি করে বলেন, “শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি অতিরঞ্জিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে।”
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী বলেন-“হুজুর নিয়মিত ক্লাস নেন না। উল্টো অফিসে বসে আড্ডা দেন। আমরা সুপারিন্টেন্ডেন্টকে বললে তিনি রেগে গিয়ে আমাদের লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন। আমাদে সঙ্গে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন একপর্যায়ে আমাদের গায়ে হাত দেন। এজন্য আমরা ওনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি।”
এ বিষয়ে মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঞ্জুরুল হক  বলেন —“এ ঘটনায় আমাদের কাছে মৌখিক অভিযোগ এসেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ওমার ফারুককে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।


এ জাতীয় আরো খবর