চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
বাস শ্রমিকদের বেতন ও সুবিধাদি বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে মালিক ও বাস শ্রমিকদের জেরে দ্বিতীয় দফায় দ্বিতীয় দিনের মত চাঁপাইনবাবগঞ্জ,রাজশাহী ও নাটোর থেকে একযোগে ঢাকাসহ দুরপাল্লার বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে শনিবারও (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী অঞ্চলের এই তিন জেলা থেকে টানা দ্বিতীয় দিনের মত চলাচল করে নি বাস। তবে একটি কোম্পানী সহ ছোট ২/১টি কোম্পানীর বাস চলছে বলে সরেজমিনে দেখা গেছে ও শ্রমিক সুত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রথম দফায় গত ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর দাবী আদায়ে শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দিলেও দ্বিতীয় দফায় মালিকরা বন্ধ করেছেন বলে উভয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগেও একবার ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর শ্রমিকরা বাস বন্ধ করেছিল। এখন কবে এই অচলাবস্থা কাটবে সে ব্যাপারে কোন পক্ষ কিছু জানায় নি।
জানা গেছে, প্রথম দফায় টানা দু’দিন বন্ধের পর ঢাকায় মলিক ও শ্রমিকদের সমঝোতায় গত মঙ্গলবার(২৩সেপ্টেম্বর) বিকাল থেকে রাজশাহী অঞ্চলের তিন জেলা থেকে বাস চলাচল পূণরায় শুরু হয়। তবে মাত্র দু’দিন চলার পর সমঝোতায় বর্ধিত বেতন হাতে না পেতেই গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টা থেকে আবারও জেলাগুলো থেকে বাস চলাচল পূণরায় বন্ধ হয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার থেকেই বর্ধিত কাঠামোর বেতন,ভাতা চালু হবার কথা ছিল। যা শ্রমিকরা হাতে পান নি।
এ অবস্থায় আবারও দূর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। পুজার সময় আচমকা এমন বন্ধে পূর্বে থেকে টিকেট কেটে অনেকেই বাসষ্ট্যান্ডে এসে টিকেটের টাকা ফেরৎ নিয়ে নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন বা বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। বাসস্ট্যাান্ড অনেকটাই ফাঁকা। অনেক কোম্পানীর কাউন্টার বন্ধ। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে দেশ ট্রাভেলস কাউন্টার ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম বলেন,অচলাবস্থা কাটেনি।তবে রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) এ ব্যাপারে বসা হতে পারে এমনটি বিকেলে শোনা গেছে।
বাস বন্ধের ব্যাপারে গ্রামীন ট্রাভেলস এর এমডি আব্দুর রাকিব বলেন, গত মঙ্গলবার সমঝোতার পর আবার শ্রমিকরা অতিরিক্ত কিছু দাবি তুলে যা বাস মালিকদের জন্য মেনে নেয়া অলাভজনক। ফলে বাধ্য হয়ে আপাতত: বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মালিকরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন এই সমস্যার সমাধান নিয়ে।তিনি বলেন, চলাচল করছে এমন অন্য কোন পরিবহনের সাথে তুলনা করে দাবি করলে হবে না। সব কোম্পানীর রুট, পরিবহন ও বেতন কাঠামো এক নয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী ও কভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, এখন আবরও আলোচনা করে সমস্যা মিটাতে হবে। মালিকপক্ষ আলোচনায় বসলে তাদের বক্তব্য বিবেচনা করা হবে। রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, এ সমস্যার ষাথে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি,বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ বাস ও ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশন জড়িত। এখন রোববার মালিক ও শ্রমিক বসা হতে পারে এমন শোনা গেলেও নিশ্চিত হওয়া যায় নি। নাটোর মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বলেন, আলোচনা করেই দ্রæত সমস্যার সমাধান করতে হবে। যাত্রী ভোগান্তীর অবসান করতে হবে।