বাবার চিঠিটি হাতে দিয়ে বললো আমার মেয়ে,
এই-নাও দিলেম তোমায় সাত রাজার ধন কুঁড়িয়ে।
বিস্ময়ে অবাক হয়ে চেয়ে রই নীল খামটির দিকে,
এ-যে অনেক পুরনো চিঠি পাঠিয়েছিলেন অনেক কথা লিখে।
হাতে নিয়ে খামটি মনে হলো বাবার পরশ লাগলো হাতে,
চোখ দুটো উপচে এলো মোর উষ্ণ নোনা জলের বন্যাতে।
বাবা আমার হারিয়ে গেছেন সেই কবে অনেক বছর আগে,
তবু এমনি করে এসে ছুয়ে যান হৃদয় গভীর আবেগে।
নিজেকে সামলে নিয়ে যেইনা শুরু করেছি পড়তে চিঠিটি,
চোখের সামনে ভেসে উঠলো পুরনো দিনের সেই ছবিটি।
ফেলে আসা বাবার বাড়ীর সেই আনন্দ মেলা,
কলকাকলিতে ভরা আমার সেই মধুর ছেলে বেলা।
বাবা লিখেছেন সবিস্তারে জীবনের ভালো মন্দ কত সব কথা,
হাসি কান্না ছোটদের লেখা পড়া আর মায়ের পায়ের ব্যাথা।
লিখেছেন চিঠি পেতে দেরী হলে কতযে উৎকণ্ঠায় মন তার দোলে।
অপেক্ষায় অধীর আমিও যে বসে রই বাবার চিঠি আসবে বলে।
পুরোনো চিঠিটি পড়তে পড়তে হারিয়ে যাই আমি যে আবার,
লিখেছেন আম কাঁঠালের গাছ গুলোতে কেমন ফলন হোল এবার।
ক্ষরাতে ফসল হয়নি ভালো প্রচন্ড গরমে চারিদিক ঝলসে গেল।
আরো কতযে কথা পড়তে পড়তে আবারো দুচোখ ভরে এলো।
বাবার চিঠি আসবেনা তো কখনো আর এ জীবনে,
পড়া শেষ করে তাই তুলে রাখি অশ্রুসজল নয়নে।
দীর্ঘ দিনের লেখা বাবার প্রতিটি চিঠি রেখেছি আমি যতন করে,
বাবা যে আমার আজো বেঁচে আছেন সেই চিঠিগুলোর প্রতিটি অক্ষরে।
ওকভীল, অন্টারিও, কানাডা