ছোট বেলায় বইতে পড়েছিলাম, সকালে উঠে আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি..!মুখে হাসি বুকে বল তেজে ভরা মন, মানুষ হইতে হবে এই যার পণ!
কিন্ত আজ আমরা সকাল থেকে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত কে কি পণ করে সময় দিন মাস বছর এবং জীবন অতিবাহিত করছি তা সবাই নিজে নিজেই উপলব্ধি করতে পারি। যার প্রভাব ও প্রকাশ এই সমাজেও ফুটে উঠছে। গোপন রাখার কিছুই নাই।
উটপাখির মতো যদি বালুর মধ্যে মুখ পুতেও রাখি তবু সত্য কখনো হারিয়ে যাবেনা,সত্য সবসময়ই সত্য,যা বেঁচে থাকে।
দুঃখজনক হলেও সত্য __
পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষা পুস্তকেই সীমাবদ্ধ রইল কিন্তু সমাজে প্রতিষ্ঠিত হইল আর কৈ?আজ সবই উল্টো চর্চা হচ্ছে,ফলে প্রভাবিত হচ্ছে সমাজ সভ্যতা।ধংস হচ্ছে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন এবং পরিবেশ।
তার অন্যতম কারণ এখন আর কেউ মানুষ হওয়ার চর্চা ও আলোচনা করে না, সবাই যার যার স্বার্থেই ব্যস্ত।মানুষ যে সামাজিক জীব।
সেটাও প্রায়বিলুপ্ত হয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতা মানুষের মধ্য থেকে হারিয়ে গেছে।উঠে যাচ্ছে মূল্যবোধ,আন্তরিকতা ভালবাসা বিবেক ও নীতি নৈতিকতা।
অবশেষে মনুষত্ব্যের উপর থেকে বিশ্বাসটাই হারিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।ফলে সংস্কৃতি পরিবেশ সভ্যতা ওসমাজ হারাচ্ছে স্বকীয়তা।
আমি জন্মেছি খুব বেশিদিন না,আমার জন্ম এইত কত আর হবে,তা জুম্মা জুম্মা আটদিন হবে হয়ত, নির্দিষ্ট করে বলতে. আনুমানিক ৮৬-৮৭তে দুনিয়ার মুখ দেখা।তাতে বয়স আর কতইবা হবে, তবে এ পর্যন্ত হিসেব মতে যা হয় আর্কি।
কিন্ত এরমধ্যের জীবনে দোপীঠে অভিজ্ঞতা আছে, একটা দেশীয় আরেকটা প্রবাস জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। যা থেকে মিল করতে গিয়ে দেখি, বাঙালি সংস্কৃতি একেবারেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে।এ বাঙালি সমাজে অধিকাংশ মানুষের মধ্য থেকে হারিয়ে গেছে আন্তরিকতা মূল্যবোধ,ভালবাসা নীতি নৈতিকতা সততা মানবিকতা প্রভৃতি।
বেঁচে আছে এই সংস্কৃতির প্রধান মন্ত্র প্রতিহিংসা স্বার্থপরতা অকৃতজ্ঞতা আর বিশ্বাস নিয়ে বানিজ্য করা ধোঁকা প্রতারণা ঠকবাজী ভন্ডামি দুর্নীতি তেলবাজী দালালী।অবশ্য হুমায়ুন আজাদ বলে গেছেন,বাঙালি সমাজ প্রধানত দালাল সমাজ।
বৈষম্য যুলুম অবিচার অনিয়ম সুদ ঘুস দুর্নীতি খুন ধর্ষন ইত্যাদি অপরাধ ও অপরাধীর পক্ষেও জনমত তৈরি হওয়ার মানসিকতার তেলমাথায় তেলদেয়াই যেনএখানে রীতিনীতি আর এই দোপীঠে অভিজ্ঞতা আমাকে দারুণ ভাবে অভিজ্ঞ করে তুলেছে বৈকি।
স্পষ্ট করে বললেই অনেকের কাছে অপছন্দনীয় হতে হয়। আজ এপর্যন্ত চোখের সামনে যা যা ঘটছে সবই দেখে চলেছি, যতদিন বেঁচে থাকব আরো কত কি দেখা লাগবে ইচ্ছায় অনিচ্ছায়,হয়ত সুস্থ সমাজের আশাটাও পূর্ন হবে না।
তবুও একজন ক্ষুদ্র ও সামাজিক সাধারণ মানুষ হিসেবে দায়বদ্ধতা থেকে বর্তমান ওভবিষ্যতপ্রজন্মের দিকে তাকিয়ে কিছু চর্চা ও আলোচনা করতে হয়।
তানাহলে বিবেকের কাছে যেন অপরাধী মনে হয় নিজেকে।মাঝে মাঝে যদিও জন্মস্থান জন্মভূমি নিয়েও আফসোস হয়
,হাই আল্লাহ, একটা সুস্থ সমাজ সভ্যতা এবং সুস্থ পরিবেশ ঘেরা দেশের মাটিতে সৃষ্টি করে পাঠালে কিবা ক্ষতি ছিলো! অবশ্য আমার জন্মভূমিটাও একসময় এতোটা অসুস্থ ছিল না।
যথেষ্ট বসবাসের উপযোগী ছিল একটা সময় কিন্তু তা দিনে দিনে একেবারেই অনুপযোগি হয়ে উঠেছে,জানি না ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য কি অপেক্ষা করছে!আর সেই ভাবনা থেকেই সুস্থতা ফেরাতে সবার মাঝে পুস্তকের সেইসব থেকে কিছু চর্চা ও আলোচনার চেষ্টা।সফল না হলেও চেষ্টা যে করেছি এই শান্তনাটুকু অন্ততঃ পাওয়া যাবে আত্মতৃপ্তির জন্য।
ইসলাম বলে, ভাল চিন্তা করাও ইবাদত। স্রষ্টা নিজেই বলেছেন চেষ্টা করো, দেয়ার মালিক আমি। অন্ততঃ না হয় তাইই হোক!
সফলতা ব্যর্থতা পরের ব্যাপার.চেষ্টাতো হোক। যদি একটু মানসিক যন্ত্রণা যথেষ্ট বেড়ে যায় অসুস্থ সমাজ সভ্যতার মাটিতে এসেই পড়ার কারণে।জানি না এটা দুর্ভাগ্য নাকি সৌভাগ্য।প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী জন্ম যখন নিয়েছি নিশ্চয় তখন নিষ্পাপ ফেরেস্তার রুপেই জন্মেছিলাম এবং প্রতিটি নবজাতকের ক্ষেত্রে তাইই হয়ে থাকে।
তবে যদি আমি বা আমার মতো যত মানুষ জন্ম থেকে আজ অবধি পরিবার সমাজ সংস্কৃতি সভ্যতা পরিবেশ এবং রাষ্ট্রে বেড়ে উঠেছি তারা সবাই অবশ্যই দুইমেরুতে ভাগ হয়ে গেছে।একটা ভাল একটা মন্দ।
আর এই ভালো মন্দ পরিচয় নিয়েই সমাজ সভ্যতায় জীবন যাপন করে চলেছি আমরা মানুষ। এখন কথা হচ্ছে, আমি বা আমার মত অন্য কেউ আপনার আমার কারো চোখে ভাল বা মন্দের পরিচয়ে পরিচিত হয়ে আছি।কাউকে ভাল আবার কাউকে খারাপ বলে অভিহিত করেই সমাজে আমাদের জীবন যাপন ও পথচলা ।
কিন্ত একটাবারও কি ভাবনা হয়,এই ভাল খারাপের পেছনে কে দায়ী! ভালকে ভালো বলে যেমন প্রশংসা পত্র দিচ্ছি আর কৃতিত্ব অর্জন করছি ঠিক তেমনি খারাপ কে খারাপ বলে ঘৃণা ছড়াচ্ছি কিন্তু এর দায় কি আমরা কেউই স্বীকার করছি?অবশ্যই না।
বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, আমি আপনার কি ক্ষতি করেছি? তবে কেনো অযত্ন অবহেলা ঘৃণা এবং দোষে দোষী ভেবে তাকিয়ে আছেন? কেনো আপনার বিবেকের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে এ সমাজে জীবন যাপন করছেন? তবে নিশ্চয় ভালোর জন্য যেমন নিজের কৃতিত্ব আলোচনা করছেন ঠিক তেমনি খারাপ হওয়ার পেছনেও আপনার দায় আছে।
কারণ আমি মনে করি,এই সমাজ সভ্যতা পরিবেশ সংস্কৃতি আর দেশের সরকার প্রশাসন আইন শৃঙ্খলা বিচার ব্যবস্থাসহ সার্বিক সামাজিক সিস্টেম ও মানুষের আচার আচরনই দায়ি থাকে একটা দেশ,মানুষ_জাতি গঠনে।দায়সারা আলাপের স্বার্থপর_বর্নচোরাপনা মানসিকতায় কখনো পরিপূর্ণ ভাল কিছুই আসা করা যায় না।
নিজের জন্য যেমনটা চাই অন্যের জন্যেও তেমনটা চাইতে হয়।এজন্যই মণীষি লিও তলস্তয়ের ভাষায় বলতে হয়_যদি নিজের ব্যথা টের পাও তবে তুমি জীবিত আর যদি অন্যের ব্যথা টের পাও তবেই তুমি মানুষ।তাছাড়া, যদি দৃশ্যমান মানুষকেই ভালবাসতে না পার তাহলে অদৃশ্য স্রষ্টাকে ভালবাসবে কিভাবে?
সুতরাং জন্মলগ্ন থেকে ফেরেস্তাতুল্য মানুষটাকে অনুরূপ মানুষ হিসেবে তৈরি করতে চাইলে অবশ্যই পরিবার থেকে সমাজ_রাষ্ট্র ও মানুষের আচার আচরণ সভ্যতার প্রভাব ফেলে বা হাত থাকতে হয় এবং তারই ফল সমাজ ও মানুষ ভোগ করে।
অতীত ইতিহাসে যাওয়াটা অপ্রাসঙ্গিক, গেলেও লেখাটা লম্বা হয়ে যাবে তাই সংক্ষিপ্তকারে স্বাধীনতার পরবর্তী আলাপ করা যেতে পারে।
কারণ এদেশে স্বাধীনতার পরেই জন্ম আমার।পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙা পরিবেশেও স্বাধীন ভাবে জীবন যাপন করার সৌভাগ্য আজও হয়নি আমার।কিন্ত কেনো? দেশ স্বাধীন হলেও পরাধীন জাতি আমরা।
গভীর বিশ্লেষন ও গবেষণা করলে দেখা যাচ্ছে, কোনো দিক থেকেই আমরা স্বাধীন নই!ইন্টারনেট জগৎ আকাশ বাতাস থেকে শুরু করে সর্ব পথেই বন্দি দশার জীবন আমাদের। এ একপ্রকার জিম্মি ও বন্দিদশার জীবন।পরাধীন জিম্মিদশার জীবন আসমান জমিন সবখানেই।আমরা কেউ কোথাও স্বাধীন নই।
এলেখাটা লিখছিও স্বাধীনতার ৫৪ বছরের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।যদিও বয়স আমার জুম্মাজুম্মা ৮দিন তবে ইতিহাস ও দর্শন অভিজ্ঞতা থেকে উপস্থাপনের চেষ্টা করছি।
স্বাধীন দেশের প্রশ্নে মনে করি,এক্টি জাতি ও ব্যক্তির জন্য ৫৪ বছর অবশ্যই একটা তাৎপর্যপূর্ণ সময়।শিশু কিশোর যৌবনে যা কিছু অর্জিত হয় তার প্রতিফলন ঘটে প্রাপ্ত বয়স্ক সময়ে এসে।এক্টা মানুষ অতীত সুখ-দুঃখকে পেছনে ফেলে নতুন জীবনে যাত্রা শুরু করে।
পরবর্তী-প্রজন্মের ভবিষ্যৎ তৈরির সক্ষমতাও তার সাফল্য ও ব্যর্থতার ওপর নির্ভর করে আর সেই অর্জনের সুফল বা কুফলের অংশীদারও হয়।যাকে বলে জাতিগত বা পৈতৃক রেখে যাওয়া সম্পদ।
জাতির পূর্বপুরুষ ও সমাজ ব্যবস্থা_সভ্যতা সংস্কৃতি সিস্টেম মানুষের আচার আচরণ আমরা যেভাবে পাচ্ছি সেভাবেই ইচ্ছায় অনিচ্ছায় গ্রহণ করে সমাজে বসবাস করতে হচ্ছে। আবার আমরাও যেটা রেখে যাবো তার প্রভাবে তেমনটাই ভবিষ্যত সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে ও আগামী প্রজন্ম তা গ্রহণ করবে এটা সিম্পল হিসেব।
পূর্বপুরুষের দেওয়া বিষয়-সম্পত্তি এবং ব্যক্তিগত অর্জনের সম্মিলনের ফলই আমাদের এসময়ে ভোগ করার কথা আর এটাই নিয়ম।এখনকার অবস্থানই বলে দেবে একটা মানুষ পূর্ববর্তী সময়গুলোকে কীভাবে কাজে লাগিয়েছে।এসময়ে যদি সে দাঁড়াতে না পারে, তবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তা দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।তার ব্যর্থ জীবনের অংশীদার পরবর্তী প্রজন্মকেও হতে হয় বৈকি।ঠিক সমাজ ও মানুষের মধ্যেও এভাবে চক্রাকারের সবকিছুর উপর সবকিছুর প্রভাব পড়ছে , যা দায়সারা গল্পে এড়ানো যাবেনা ভাই।ভাল খারাপ সবকিছুর পেছনেই আপনি আমি ওপূর্ববর্তী মানুষ তথা সমাজ ব্যবস্থায়ই দায়ি।কোন কিছুই একা একা সৃষ্টি হয় না। পথ পথিককে সৃষ্টি করে না,পথিক পথকেই সৃষ্টি করে যেমন আমরাই সমাজ সৃষ্টি করি ওজাতি গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করি।সুতরাং যারাই সমাজ সভ্যতা পরিবেশ ও মানুষ তৈরি করে,তারাই ধংস হয়ে যাওয়ার পেছনে দায়ি।
নিজে ভালো থাকা ভালো খাওয়া ভালো পরা ভালো জীবন আর আত্মকেন্দ্রিক থাকার চেষ্টা করে স্বার্থপর_বর্নচোরাপনা মানসিকতায় সশিক্ষিত সাধু সেজে পার পাওয়া যাবে না, হয়ত ব্যাক্তি জীবন ভালো কাটবে কিন্তু অসামাজিক প্রানীর মতো।এবং সমাজের অসুস্থতা কোনো না কোনো ভাবে ভোগ করতে হবে। কারণ মানুষ সামাজিক জীব,সমাজ পরিবেশে যা কিছু আছে সবকিছু নিয়েই সমাজ গঠিত যখন,সামাজিক মানুষ হিসেবে দায়বদ্ধতা থেকেই যায় হিসাবও দিতে হবেই।এরপর দেখেন যা ভালো মনে করেন।
তবে আমাদের দেশের ৫৪ বছরের সার্বিক পরিবেশ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে মনে হয়,স্বাধীনতার পর যে বিষবৃক্ষ রোপণ করেছি, তার বিষাক্ত ফল আমরা ভক্ষণ করে যাচ্ছি এবং তার বীজ থেকে তৈরি হচ্ছে আরও নতুন বিষবৃক্ষ। জীবনের এ নতুন অধ্যায়ে এসে আমাদের সমাজজীবনে চরম অবক্ষয়ের চিত্র জীবন্ত হয়ে আছে।আর তার পেছনেও আমরা দায়ি, হয় আমি না হয় আপনিই।
সম্প্রতি..খুন ধর্ষণ ছিনতাই চাঁদাবাজি চুরি ডাকাতি প্রতারণা সুদ ঘুস দুর্নীতি বৈষম্য এমনকি মানবতাবিরোধী অপরাধ গণপিটুনিতে হত্যা মাদক ইভটিজিং কিশোর গ্যাংয়ের মত এসব নানা অপরাধ আমাদের সমাজ জীবনকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে ক্রমশ।যারা এতদিন নিজেদের নিরাপদ ভেবে হাতগুটিয়ে বসেছিলেন,তারাও এখন সামাজিক এই অস্থিরতার বেড়াজাল থেকে নিজেদের রক্ষা করার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না।
জাতীয় একটি দৈনিকে প্রকাশ,চলতি বছর এপ্রিল নাগাদ শুধু ঢাকা শহরেই ৫১১ জন কিশোর সন্ত্রাসীর তালিকা করেছে পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন,এসব কিশোর স্কুল-কলেজের সামনে নারীদের উত্ত্যক্ত করা থেকে সামান্য বিষয় নিয়ে মানুষ খুন করার মতো ঘটনাও ঘটিয়ে থাকে।সব ঘটনা তুলে ধরলে এ তালিকা আরও দীর্ঘ হবে।
গনমাধ্যম তথ্য অনুযায়ী কোনো একটি এলাকা থেকে শুধু একদিনেই ১১ জন কিশোরকে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার অপরাধে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ,যাদের বয়স ১৬ -১৯ এর মধ্যে।বলা বাহুল্য,এরা সবাই ছাত্র ও সচ্ছল পরিবারের সন্তান।
মূলত পথের শিশুরাই বড় হয়ে নানারকম অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এটা ছিল স্বাভাবিক।কিন্তু এখন সচ্ছল পরিবারে যত্নে বেড়ে ওঠা ছেলেমেয়েরাও নানান ধরনের অপরাধে নিজেদের জড়িয়ে ফেলছে।
পুলিশ প্রশাসনের মতে, মূল্যবোধের পরিবর্তন, সামাজিক অবক্ষয় ইত্যাদি কারণে কিশোর-তরুণরা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। পুলিশ এদের তালিকা করে ধরার চেষ্টাও চালাচ্ছে বলে গনমাধ্যমের খবর আছে ।
তাদের ধারণা, কিশোর-তরুণরা নিত্যনতুন মোবাইল ফোন, দামি কম্পিউটার, পোশাক-আশাকের মোহেও পা বাড়ায় অপরাধের পথে।বাবা-মা চাহিদা পূরণ করতে না পারলে এরা টাকার লোভেই অপরাধ করে বসে।
অথচ এক যুগ আগেও ঘরভর্তি সন্তান ছিল।এসব সন্তানের পক্ষে-মা বাবার যথাযথ যত্ন_তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এছাড়া পরিবারের সীমিত আয়ের মধ্যেই সবার চাহিদা সীমাবদ্ধ থেকেছে।তবে বাড়ির মধ্যে অল্পশিক্ষিত- অশিক্ষিত গৃহকর্তার নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য থাকত সবাই।বাবা- মা শিক্ষক-শিক্ষিকা-গুরুজনদের নীতি,আদর্শ অনুসরণ করে জীবনের সঠিক পথ খুঁজে বের করাই সে সময় ছোটদের জীবনের লক্ষ্য মনে করা হতো। আমরাও তাই মনে করতাম।সেসময় কিশোর-যুবকদের বখে যাওয়ার ঘটনা ঘটত খুবই কম।
অথচ বর্তমান সমাজ অর্থবিত্তের মোহে এতটাই ডুবে আছে যে, তা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় কোনো আদর্শ নয়,বরং যেনতেন উপায়ে বিত্তবৈভব অর্জনের কৌশল আয়ত্ত করা আর এ ধরনের মনমানসিকতা আমাদের নীতি বিবর্জিত এক জাতিতে পরিণত করছে।
সামাজিক অস্থিরতা রাজনৈতিক দৈন্য-দুর্দশা, শিক্ষাজগতে নৈরাজ্য, সমাজসেবার নামে নিজ স্বার্থ হাসিল, স্বেচ্ছাচারিতা ইত্যাদি কিশোরদের মধ্যে হতাশা ও ব্যর্থতার জন্ম দিচ্ছে। যার পরিণামে তারা অনিবার্যভাবে নানা অপরাধের দিকে পা বাড়াচ্ছে।
স্বাধীনতার পর একটির পর একটি প্রজন্ম অতিক্রান্ত হয়ে এ প্রজন্মের সূচনা ঘটেছে ঠিকই কিন্তু, সাম্প্রতিককালের মতো এমন সংকট এদেশে আর কখনো দেখা যায়নি।বর্তমানে সমাজ অসুস্থ এবং সভ্যতা একেবারে যেন দেউলিয়া হয়ে গেছে। বিলুপ্তপ্রায় মানবিকতা_বিবেক মনুষত্ব্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতা ছিকে উঠেছে।
দালালী তেলবাজী ধোঁকা প্রতারণা আর বিশ্বাস নিয়ে ব্যবসা করা বাঙালির হিংসা এবং স্বার্থপরতার সংস্কৃতিতে মনুষত্ব্যের উপর থেকে বিশ্বাসটাই হারিয়ে গেছে অবশেষে।সৌহার্দ্যপূর্ন আচরণ আন্তরিকতা সৌজন্যবোধ, মূল্যবোধের অভাব প্রতিনিয়তই বিস্তার লাভ করছে।
বাঙালি
সমাজসংস্কৃতিতে মানুষেরমধ্যে সংকীর্ণমানসিকতার প্রভাব বিস্তার করেছে, স্বার্থপরতা হিংসা অহংকার এমনকি নিজে বাঁচলে বাপের নাম এমন প্রবনতা সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কারো ব্যথায় ব্যথিত হওয়ার মানসিকতা বিলুপ্ত হয়ে অমানবিক অমানসিকতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
যারফলে সমাজ সভ্যতা পরিবেশের আজ নাজেহাল অবস্থা
,বেশিরভাগ আত্ম সম্মানবোধ সম্পন্ন সচেতন তরুন- যুবকদের একটাই স্বপ্ন এদেশ ত্যাগ করে কোন সভ্য দেশে পাড়ি জমানো কারণ,
বর্তমানে শিক্ষিত ছাত্রসমাজের একাংশের উচ্ছৃংখলতার কথা বলতে গেলে তা হবে খুবই দুঃখ-বেদনাদায়ক।যেখানে তাদের ওপরই নির্ভর করে দেশ ওজাতির গৌরব,সেখানে মূল্যবোধের অবনতি,তাদের অরাজকতা-উন্মাদনা যেন জাতীয় জীবনের এক অশনি সংকেত।এতো এতো শিক্ষিত গড়ে ওঠারপরেও সমাজে মানুষ যানমালে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, চতুর্দিকে অস্থিরতা বিরাজ করছে।নানা কারণে শিক্ষিতদের মধ্যেও মুর্খতার ছাপ,অথচ ছাত্রজীবন হল মানুষের প্রস্তুতিপর্ব।
এর ওপরই নির্ভর করে তার পরবর্তী জীবনের সফলতা ও ব্যর্থতা। ছাত্রজীবনে যে পিতামাতা-গুরুজনকে শ্রদ্ধা করতে শিখল না, যার দুর্বিনীত ব্যবহারে শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ, বেদনাহত পরবর্তী জীবনেও তার একই আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। এটাই স্বাভাবিক।
দেশসমাজের সবঅপরাধরোধে সরকার নানাধরনের আইন প্রণয়নের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।কিন্তু আইন দিয়েই কি সব অপরাধ রোধ বা দমন করা যায়?মূলত আইন প্রয়োগের ব্যর্থতাই মানুষকে অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়।
এমনকি আইনি দুর্বলতার সুযোগে অপরাধী অপরাধ করতে দ্বিধাবোধ করে না। অপরাধীর উপযুক্ত শাস্তি না হলে পরে ভুক্তভোগীও ধীরেধীরে নিজেকে অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়।কারণ সমাজে কেউ একা ভালো হয়ে থাকতে পারে না, প্রভাব পড়েই,যা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এক কঠিন বাস্তবতারই প্রতিফলন।
এরপরেও কে শিক্ষিত আর কে অশিক্ষিত দেশের পরিবার টু সমাজ ও অধিকাংশ মানুষের মধ্যে আন্তরিকতা লোপ পেয়েছে।স্থান করে নিয়েছে হিংসা স্বার্থপরতা অহংকার ইগো অনিষ্টতা বৈষম্য ইত্যাদি।
মানুষের মূল্যবোধ মানবিকতা উঠেগেছে মানসিক অসুস্থতা বৃদ্ধি পেয়েছে।মানুষের মধ্যে গভীর ভ্রাতৃত্বের বন্ধন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।পরিবার থেকে সমাজ আত্মীয় সবদিক থেকে সম্পর্কের ছিন্নতা দেখা দিয়েছে স্বার্থপরতার কবলে।সমাজ সভ্যতা থেকেই যেন সততা নীতি নৈতিকতা আন্তরিকতা মানবিকতা প্রভৃতি দেউলিয়ার পথে।জীবন গতিশীল মানি, আর জীবন চলে জীবনের গতিতে।কিন্ত সম্মুখের যাত্রাপথ পাড়ি দিতে হলে মানুষকে ভ্রাতৃত্ববন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে।এবং তাতে সমাজ পরিবেশ সবটাই সুস্থতার সহিত বাঁচবে।আর সামাজিক জীব হিসেবে মানুষকেই সর্বোৎকৃষ্ট সমাজ গঠনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।
তাছাড়া বড় ব্যাপার হল,মানুষের চরিত্রটাই মানব জীবনের এক অমূল্য সম্পদ।এ শিক্ষা আমরা পেয়েছি কৈশোরেই।বইতেও পড়েছি।
কিন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য,সেই মানসিকতা আর চর্চা যেন এইসমাজ ব্যবস্থা থেকে উঠে গেছে।একপ্রকার অমানুষ হওয়ার চর্চা চলছে যেন।সবাই সবরকম হতে চাই কিন্তু মানুষ হতে চাই খুব কম জনই।
সত্যনিষ্ঠা,প্রেম,পরোপকারিতা,দায়িত্ববোধ,শৃংখলা,অধ্যবসায় ও কর্তব্য পালনের মতো চারিত্রিক গুণাবলি ভালোভাবে মুখস্থ করে পরীক্ষার খাতায় লিখেই আম্রা শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায় সমাপ্ত করে থাকি।
তবে এ শিক্ষা যেন আমাদের পরীক্ষার খাতায় নাম্বারিংয়ের মানদন্ড হিসেবেই পরিগণিত।এযেন পুঁথিগত বিদ্যা শেখানো ও শেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।বিশ্বের প্রতিটিদেশ যখন প্রস্তুতি নিচ্ছে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেদের সফল-উন্নত করতে,তখন এদেশে প্রস্তুতি চলছে আত্মহনন ও হত্যার মাঝে জীবনের অর্থহীন পথকে খুঁজে বের করার।যার জন্যেও এই অসুস্থ দায়ি সমাজ ব্যবস্থা।এখানে পরিবার থেকে সমাজ- রাষ্ট্রীয় অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুর্বলতা ও অদূরদর্শিতা যেন নিয়তির লিখন।এথেকে বের হয়ে আসতে না পারলে নতুন প্রজন্মকে আমরা রক্ষা করতে পারব না কিছুতেই।এ
দায়িত্বনিতে হবে ছাত্র-শিক্ষক- অভিভাবক, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানীসহ সবাইকে। তবে সেক্ষেত্রে আগে নিজেকে সংশোধন করতে হবে।শুধু নেতা ও প্রভাবশালী কিম্বা
আত্মকেন্দ্রিক সুখ বিলাসী বিত্তশালী হওয়ার প্রতিযোগিতা নয় বরং সবকিছুর আগেই মানুষ হওয়া জরুরি এটা বোঝার চেষ্টা করতে হবে এবং সেনুযায়ী নিজেকে মানুষ হিসেবে জাতির কাছে উপস্থাপন করতে হবে,নেতা হিসেবে নয়।উন্নত দেশ ও মানুষের ন্যয নিজেদের অর্থলিপ্সা, স্বার্থপরতা, হীনমন্যতা দূর করতে হবে।নতুবা নতুনপ্রজন্মকে আদর্শের বুলি শুনিয়ে সঠিক পথে পরিচালনা করা যাবে না। গুরুজনকে তখনই ছোটরা সম্মান ও অনুসরণ করবে যখন গুরুজন নিজেকে সম্মানিত অবস্থানে অধিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।
সম্মান পেতে হলে সম্মান দিতে হয় এইশর্তে।প্রতিহিংসা ভুলে নিজের মধ্যেই মানবিকতার জন্ম দিতে হবে।সবার আগে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই_
মানব ধর্মই বড় ধর্ম মানব সেবাই বড় ইবাদত এমানসিকতা সৃষ্টি করে যার যার যায়গা থেকে মনুষত্ব্যকে বাঁচিয়ে নতুন একটা সুস্থ সমাজ সভ্যতা গড়ে তুলতে হবে।তবেই আগামী ভবিষ্যত সুস্থ এক্টা পরিবেশ পেয়ে তারাও মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে পারবে।
হুমায়ুন আজাদের ভাষায় বলতেই পারি ,কতফুল ঝরে পড়ে অযত্নে অবহেলায়, বাকি ফুলগুলো ঝোলে শয়তানের গলায় এমন রীতি নীতিতে অযত্ন অবহেলায় নষ্টের দিকে ঠেলে দেয়া নয়।কারণ___
মানুষ বাঁচে যত্নে সম্মানে আদরে বাঁচে আন্তরিক ভালবাসায় এই নীতিতে হিংসা বিদ্বেষ ভুলে মানুষ হিসেবে অন্যকে নিরাপত্তা সম্মান ভালবাসা__
আর মূল্যায়নের মধ্যদিয়ে নিজেও সম্মানিত হতে, অন্যকেও সম্মান দিতে হবে,সমাজ সভ্যতা ও সুস্থ করে বাঁচিয়ে রাখতে ভুমিকা পালন করতে হবে আমাদের সবাইকেই।