বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬

জাতীয় নির্বাচনে নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ বাড়াতে বিএনপির নতুন প্রস্তাব

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৭-২৮ ০০:৪১:৪১
ছবি সংগৃহিত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত করতে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। দলটি ৩০০টি সাধারণ আসনের অন্তত ৫ শতাংশে নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
রোববার (২৭ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বিএনপিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের সংলাপ শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এ প্রস্তাবের কথা জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “প্রথমে আমরা সংরক্ষিত নারী আসন ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৮০ করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। এখন আমরা চাই ৩০০ আসনের অন্তত ৫ শতাংশ (১৫টি আসন) নারী প্রার্থী মনোনীত করা হোক। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা ১০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংবিধান সংশোধনের আগে বিষয়টি ‘জেন্টলম্যানস অ্যাগ্রিমেন্ট’ আকারে কার্যকর করা যেতে পারে। ধাপে ধাপে নারীরা যাতে সম্পূর্ণ সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে আসতে পারেন—সেই লক্ষ্যেই বিএনপির এই উদ্যোগ।
সংলাপে পুলিশ সংস্কার নিয়েও ঐকমত্য গড়ে উঠেছে বলে জানান সালাহউদ্দিন। প্রস্তাব অনুযায়ী, একটি বাংলাদেশ পুলিশ কমিশন গঠন করা হবে, যা সংসদে পাস হওয়া আইনের অধীনে কাজ করবে। জনগণ যাতে স্বাধীনভাবে অভিযোগ জানাতে পারে—সে ব্যবস্থাও থাকবে।
বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা পঞ্চদশ নয়, পঞ্চম সংশোধনীতে থাকা মূলনীতি—আল্লাহর প্রতি আস্থা, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ—পুনঃস্থাপন করতে চাই। তবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ধর্মীয় সম্প্রীতির মতো সংযোজন নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই।” প্রধানমন্ত্রী পদে মেয়াদসীমা নিয়েও আলোচনা হয়। কমিশনের পক্ষ থেকেও প্রস্তাব এসেছে—এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন।
আলোচনায় আরও প্রস্তাব করা হয়েছে, সরকার, বিরোধী দল ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সাংবিধানিক কমিটি গঠন করে নির্বাচন কমিশন তৈরি করা হবে, যাতে কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যায়।
সংলাপে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী, সিপিবি, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলনসহ ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। বৈঠক পরিচালনা করেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ ও বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির এই প্রস্তাবগুলো জাতীয় নির্বাচনের আগে নারীর ক্ষমতায়ন, প্রশাসনিক সংস্কার ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

 


এ জাতীয় আরো খবর