মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ধাক্কা: বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার নতুন ব্যাখ্যা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৭-২৩ ২৩:১২:৩৯
ফাইল ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকেই দেশটির বিনিয়োগ বাজার যেন এক অস্থির সমুদ্রে ভাসছে। শুল্ক আরোপ থেকে শুরু করে নীতিগত সিদ্ধান্তে হঠাৎ হস্তক্ষেপ-সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রতিটি দিন যেন এক নতুন চ্যালেঞ্জ।
ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু থেকেই পণ্যে শুল্ক আরোপ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যে ৩০ শতাংশ এবং বিদেশি গাড়িতে ৫০ শতাংশ শুল্কের ঘোষণাও এখন আর মার্কিন বিনিয়োগকারীদের তেমন চমকে দিতে পারে না। তারা এ অবস্থায় অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছেন।
কিন্তু গত ১৬ জুলাই ছিল ব্যতিক্রম। সে দিন ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে সরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিলে বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বেড়ে যায়, আর ডলারের দাম পড়ে যায়। পরে ট্রাম্প মত পাল্টালে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয় এবং পরদিনই শেয়ারবাজার নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়।
বিনিয়োগকারীরা যদিও ট্রাম্পের আচরণে এখন অনেকটাই অভ্যস্ত, তবু তারা এই অস্থিরতাকে উপেক্ষা করছেন না। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ডলারের মান বড় অর্থনীতির মুদ্রার বিপরীতে প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে। অথচ অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ধারণা করেছিলেন-ট্রাম্পের আমদানি হ্রাসনীতির ফলে ডলারের চাহিদা বাড়বে। বাস্তবতা হয়েছে ঠিক উল্টো।
হঠাৎ শুল্কারোপ, বাজেট ঘাটতির উচ্চ প্রবণতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে ভাটা ফেলেছে। মার্কিন সম্পদে বিনিয়োগ নিয়ে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্কতা দেখা যাচ্ছে।
সাধারণভাবে উচ্চ সুদের হার মানেই মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধি। কিন্তু ট্রাম্পের নীতিতে এই ঐতিহ্যবাহী সম্পর্ক ভেঙে গেছে। এপ্রিল মাসে হঠাৎ শুল্ক ঘোষণার পর দেখা যায়-বন্ডের সুদহার বাড়লেও ডলারের দাম পড়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ, বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রকে আর ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে দেখছেন না, বরং অনিশ্চয়তার প্রতীক মনে করছেন।
এই চিত্র সাধারণত উদীয়মান অর্থনীতিতে দেখা যায়। এমনকি ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের বাজেট ঘোষণার সময় লিজ ট্রাস প্রশাসনের ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল।
ঐতিহাসিকভাবে বিশ্ববাজারে ঝুঁকি বাড়লে বিনিয়োগকারীরা ডলারের দিকেই ছুটে যেতেন। কিন্তু এখন সেই প্রথাও প্রশ্নের মুখে। ভিআইএক্স ইনডেক্স অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়লেও ডলারের মান বাড়ছে না-বরং উল্টো ঘটছে।
অর্থনীতিবিদ স্টিভেন কামিন মনে করেন, ভিআইএক্স ও ডলারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, ডলার আর আগের মতো ‘নিরাপদ আশ্রয়’ নয়। ‘লিবারেশন ডে’র পর থেকে ডলারের ওপর আস্থা কিছুটা হলেও কমে গেছে।
বর্তমানে ডলারের মান কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও অর্থনৈতিক সংকট কিংবা রাজনৈতিক নাটকীয়তা পরিস্থিতিকে আবার অস্থির করতে পারে। বিশেষ করে আগামী ১ আগস্ট ট্রাম্প যদি নতুন করে ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন, তবে বাজারে এপ্রিলের মতো আতঙ্ক ফিরে আসতে পারে। তাছাড়া ফেডারেল রিজার্ভের ওপর রাজনৈতিক চাপ বেড়েছে-যা ভবিষ্যতে আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অর্থনীতির স্থিতিশীলতা অনেকাংশেই এখন নির্ভর করছে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। একদিকে বাজেট ঘাটতির বেড়ে চলা প্রবণতা, অন্যদিকে মুদ্রানীতিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ-সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ পরিবেশ এখন অস্বাভাবিক এক অনিশ্চয়তায় ঘেরা।

কিওয়ার্ডসঃডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, ফেডারেল রিজার্ভ, ডলারের দাম, শুল্ক নীতি


এ জাতীয় আরো খবর