মঞ্জুশ্রী বিশ্বাস। চলচ্চিত্র অভিনেত্রী-প্রযোজক, কবি-সাংবাদিক।
তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ এক সাংস্কৃতিক কর্মী। ৭৫ বছর বয়সেও ছিলেন সব ধরণের সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে ছিলেন অগ্রগামী। বর্ষীয়ান বিনোদন সাংবাদিক হিসেবে বহুল পরিচিতি ছিল তাঁর। সব ধরণের ভালো কাজের সাথেই নিজেকে জড়িয়ে রাখতেন। সদাহাস্যজ্বোল সহজ-সরল প্রাণবন্ত এক মানুষ ছিলেন আমাদের সাংবাদিকদের প্রিয় মঞ্জুদিদি। অভিনেত্রী-প্রযোজক, কবি-সাংবাদিক মঞ্জুশ্রী বিশ্বাস এর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ২০১৯ সালের ২২ জুলাই (২১ জুলাই রাত ২-১৫মিঃ), ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। প্রয়াত মঞ্জুশ্রী বিশ্বাসের স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা এবং তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।
মঞ্জুশ্রী বিশ্বাস (মাসুমা খাতুন) পাবনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকে নাচ-গানের প্রতি তাঁর প্রচন্ড আগ্রহ ছিল । কলেজে পড়াকালীন সময় থেকে তিনি মঞ্চে অভিনয় শুরু করেন। মঞ্চে তাঁর অভিনয় দেখে চলচ্চিকার সুভাষ দত্ত তাঁকে চলচ্চিত্রে নিয়ে আসেন।
সুভাষ দত্ত পরিচালিত 'সুতরাং' ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। ছবিটি মুক্তিপায় ১৯৬৪ সালে। মঞ্জুশ্রী বিশ্বাস অভিনীত অন্যান্য ছবির মধ্যে আছে- কারওঁয়া, সংগম, ক্যায়সে কহুঁ, কার বউ, বেগানা, আবির্ভাব, আগুন নিয়ে খেলা, বাল্যবন্ধু, আলোর পিপাসা, মানুষ-অমানুষ, মোমের আলো, প্রভৃতি।
আমাদের দেশের প্রথম মহিলা চলচ্চিত্র প্রযোজক তিনি। নজরুল ইসলাম পরিচালিত 'কার বউ' (১৯৬৬) ছবিটি প্রযোজনার মধ্যদিয়ে প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন মঞ্জুশ্রী বিশ্বাস। পরে তিনি- মোমের আলো ও আলোর পিপাসা ছবি দুটিও প্রযোজনা করেন।
দীর্ঘদিন বিভিন্ন পত্রিকায় বিনোদন সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন মঞ্জুশ্রী বিশ্বাস। একসময় 'রংবেরং' নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। মৃত্যুর আগপর্যন্ত ছিলেন, সাপ্তাহিক ‘দি পার্লামেন্ট’ পত্রিকার সম্পাদক । লিখেছেন অনেক গল্প-কবিতা। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস)’র এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সিনিয়র সদস্য ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)'র কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে থেকেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি বিখ্যাত সাংবাদিক ফরিদ উদ্দিন নিরোদ'কে বিয়ে করেছিলেন । বিয়ের পর, সনাতন ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তাঁর মুসলিম নাম মাসুমা খাতুন। স্বামী ফরিদ উদ্দিন নিরোদ, তাঁর আগেই ২০০৪ সালে মারা যান। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
মঞ্জুশ্রী বিশ্বাস ছিলেন মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন একজন মানুষ। পরিচিত মানুষের বিপদাপদে পাশে দাঁড়াতে সাহায্যের হাত বাড়াতে দেখা যেত সবসময় । মগবাজারের আমবাগানে তাঁর ‘রজনীগন্ধা’ নামের নিজস্ব বাড়িতে, অনেক ভাড়াটিয়াই ভাড়া না দিয়েই থেকেছে বলে জানা যায়। এই নিবেদিতপ্রাণ সাংস্কৃতিক কর্মী, শিল্প-সংস্কৃতিসহ সব ধরণের ভালো কাজের সাথেই নিজেকে জড়িয়ে রাখতেন সবসময় । জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে সাথে জড়িয়ে ছিলেন। সদাহাস্যজ্বোল সহজ-সরল প্রাণবন্ত এক মানুষ ছিলেন মঞ্জুশ্রী বিশ্বাস। আমাদের চলচ্চিত্র সাংবাদিকদের কাছে সবার প্রিয় মঞ্জু'দি- স্মৃতিতে অম্লাণ।