“নির্বাচন হলে যাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই,তারাই নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে”-এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ‘নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র: গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য হুমকি’ শীর্ষক আলোচনায় দুদু বলেন, “ফ্যাসিবাদ, লুণ্ঠন ও গণতন্ত্রবিরোধী শক্তিকে হটিয়ে দেশে সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি।”
শেখ হাসিনাকে “গণহত্যাকারী, লুণ্ঠনকারী ও স্বৈরাচার” আখ্যায়িত করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “শেখ হাসিনাকে এদেশে কেউ ক্ষমা করবে না। জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মহল এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশও জানে তিনি কী ধরনের শাসক। তাঁর হাতে দেশ তুলে দেওয়া হয়েছিল। তিনি নিজেই বলেছিলেন, ভারতকে এমন কিছু দিয়েছি, যা তারা ভুলবে না। তাহলে কি দেশটাই তুলে দিয়েছেন?”
সভায় ড. ইউনূস প্রসঙ্গও উঠে আসে। দুদু বলেন, “ড. ইউনূস বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল,সেটি সত্য। তবে আমরা তাঁর সমালোচনা করি যেন তিনি জনগণের পক্ষেই থাকেন। তাঁর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আমাদের দেশের জন্য সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। আমাদের প্রত্যাশা-তিনি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে ভূমিকা রাখবেন।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন ছাড়া দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প পথ নেই। অনন্তকাল নির্বাচন এড়িয়ে গেলে ষড়যন্ত্র থেমে থাকবে না। গোপালগঞ্জে যা ঘটেছে, তা ঢাকায় ঘটবে না-তার নিশ্চয়তা নেই।”
আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ এনে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন- “গত ১৫ বছরে চার-পাঁচটি বাজেটের সমপরিমাণ অর্থ লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। সরকার আজও এক টাকাও দেশে ফেরত আনতে পারেনি।”
দুদু জানান, “জুলাই-আগস্টে যারা নিহত বা আহত হয়েছেন, বিএনপি ইতোমধ্যে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন-বিএনপি ক্ষমতায় এলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সহায়তা দেওয়া হবে।”
আলোচনা সভায় দুদু বলেন, “আমাদের নেতা আগেই বলেছিলেন-এবারের নির্বাচন খুব সহজ হবে না। আজ তা বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয় এবং তারা চায় না বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরুক।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারী। আলোচনায় আরও অংশ নেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপির সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনির খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সহ-সভাপতি শিল্পী জেনস সুমন, সাংস্কৃতিক সংগঠক মহিদুল ইসলাম মামুন ও শরীফুল হাই প্রমুখ।
এই আলোচনায় বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট:
আওয়ামী লীগ সরকারকে অবৈধ বলা
ফ্যাসিবাদ ও নির্বাচন বন্ধের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
নির্বাচন ছাড়া পথ নেই-এই মেসেজ স্পষ্ট করা
ড. ইউনূসকে নিয়ে সতর্ক আশাবাদ
শহীদ পরিবারদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি
নির্বাচনী ষড়যন্ত্র, শামসুজ্জামান দুদু বক্তব্য, ড. ইউনূস নির্বাচন, বিএনপি নির্বাচন বার্তা, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা বাংলাদেশ