শনিবার, মে ২, ২০২৬

বিএনপিকে আমন্ত্রণ,কিন্তু কেউ এলো না: জামায়াতের সমাবেশে ভিন্ন রাজনৈতিক বার্তা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৭-১৯ ১৫:৩৫:১৭
ছবি সংগৃহিত

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সমাবেশে অংশ নিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সহ সকল ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে বিএনপি থেকে কোনো নেতা বা প্রতিনিধি উপস্থিত হননি, যা রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "আমন্ত্রণপত্র এলেও দলের কোনো কেন্দ্রীয় নেতা ওই সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন না।"
সাম্প্রতিক সময়ের রাজনীতিতে জামায়াত একপ্রকার রাজনৈতিক নিঃসঙ্গতায় ভুগছে বলে অনেকেই মনে করেন। তবে আজকের এই সমাবেশে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়ে দলটি 'রাজনৈতিক সহাবস্থানের' নতুন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এদিন দুপুর ২টায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, যিনি দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মঞ্চে উপস্থিত হলে নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাসে তাকে অভ্যর্থনা জানান।
জামায়াত এই সমাবেশে তাদের সাত দফা জাতীয় দাবি ঘোষণা করে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা
প্রতিনিধিত্বমূলক (PR) পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন
জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনায় নতুন বাংলাদেশ গঠন

এছাড়া দলটির পক্ষ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সমাবেশে শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং কিছু প্রতিনিধিও বক্তব্য রাখেন। একইসঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়। জামায়াত দাবি করে, তারা রাজনৈতিক ভিন্নমতের সবার সঙ্গে সংলাপে আগ্রহী।
সমাবেশে জনগণের ঢল নামাতে দলটি প্রায় ১০ হাজার বাস, কয়েক জোড়া ট্রেন এবং দক্ষিণাঞ্চল থেকে লঞ্চ রিজার্ভ করে। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে শাহবাগ, ফার্মগেট, বাংলামোটর, পল্টন ও রমনা এলাকায় ট্রাফিক ধীরগতির হয়ে পড়ে।
যদিও জামায়াত বারবার ঐক্য ও সহাবস্থানের ডাক দিচ্ছে, বিএনপির অনুপস্থিতি স্পষ্ট করে দেয় যে দুই দলের মধ্যে দূরত্ব এখনো প্রকট। বিশেষ করে, বিএনপি এখনও জামায়াতের সঙ্গে প্রকাশ্যে মঞ্চ ভাগ করতে নারাজ-নানা আন্তর্জাতিক চাপ, আদর্শগত পার্থক্য ও রাজনৈতিক কৌশলের কারণে।
এদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগকে গণআন্দোলনের পরবর্তী ধাপে রাজনৈতিক বৈধতা ও নেতৃত্বের চেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
যদিও জামায়াত তাদের শক্তি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকার বার্তা দিতে চেয়েছে, বিএনপির দূরত্ব সেই চেষ্টায় একটি বড় ধাক্কা দিয়েছে। সমাবেশে উপস্থিতির দিক দিয়ে সাফল্য থাকলেও, রাজনৈতিক ঐক্যের যে আশা তারা দেখিয়েছিল, তাতে ফাটল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

কিওয়ার্ডসঃ জাতীয়সমাবেশ২০২৫,জামায়াতবিএনপি,রাজনৈতিকঐক্য,জুলাইঅভ্যুত্থান,PRনির্বাচনপদ্ধতি


এ জাতীয় আরো খবর