বুধবার, এপ্রিল ২৯, ২০২৬

আবরার ফাহাদের বাবার আহ্বান: ১৬ বছরে র‌্যাগিংয়ে নিহত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশের দাবি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৭-১৯ ১৫:০৩:৩৪
ছবি সংগৃহিত

আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ শাসন আমলে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র‌্যাগিংয়ের নামে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডগুলোর তালিকা প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হয়নি, নেই কোনো সরকারি স্বীকৃতি বা ক্ষতিপূরণ। আজ শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জাতীয় সমাবেশে তিনি এই আহ্বান জানান।
বরকত উল্লাহ বলেন,"আমার ছেলে আবরার ৬ বছর আগে বুয়েটে ছাত্রলীগের হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছিল। এখনো বিচার পাইনি। সরকার যদি গণঅভ্যুত্থানসহ অন্য হত্যাকাণ্ডের তালিকা করতে পারে, তাহলে র‌্যাগিংয়ে যারা প্রাণ হারিয়েছে, তাদের তালিকা কেন করা হবে না?"
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় আবরার ফাহাদকে। শিবির সন্দেহে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এই ঘটনা শুধু দেশ নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়, কিন্তু র‌্যাগিং সংস্কৃতি বহু জায়গায় এখনও চলমান।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং অন্যান্য সময়কার সহিংস রাজনৈতিক ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করলেও, ক্যাম্পাসে ছাত্রনির্যাতন ও র‌্যাগিংয়ের শিকার শিক্ষার্থীদের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট পদক্ষেপ বা নীতিমালা এখনো দৃশ্যমান নয়।
বরকত উল্লাহ বলেন, "নতুন সরকার চাইলে একটি মানবিক উদ্যোগ নিতে পারে। যারা বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির সহিংসতার শিকার হয়েছেন, বিশেষ করে র‌্যাগিংয়ের নামে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, তাদের পরিবারকে ন্যায্য বিচার, ক্ষতিপূরণ এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে।"
জাতীয় সমাবেশে আরও বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক রঙ না দেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপদ করতে হবে। বক্তারা বলেন, "ক্যাম্পাস এখন আর জ্ঞানের জায়গা নেই, বরং হয়ে উঠেছে সহিংসতার অভয়ারণ্য। আবরারের মতো ছাত্ররা যেন আর প্রাণ না হারায়, তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।"
জাতীয় সমাবেশে বক্তারা প্রশ্ন তুলেছেন, “গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আসা সরকার এখন কেন ক্যাম্পাস সহিংসতায় নিরব? বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররাজনীতির নামে নির্যাতন, দখলদারিত্ব ও র‌্যাগিং চালু থাকলে গণতন্ত্রের উত্তরণ কীভাবে সম্ভব?”

তারা বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান-
১) সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র‌্যাগিং বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন
২) নিহত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ
৩) ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ
৪) দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে মামলা নিষ্পত্তি
৫) নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণে নীতি গ্রহণ

আবরার হত্যার ৬ বছর পার হলেও উচ্চ আদালতে এখনো চূড়ান্ত রায় হয়নি। মামলার আসামিদের অনেকেই জামিনে মুক্ত। এই বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতিতে হতাশ পরিবার এবং সাধারণ জনগণ।

কিওয়ার্ডস: আবরার ফাহাদ হত্যা, র‌্যাগিংয়ে শিক্ষার্থী মৃত্যু, ক্যাম্পাস সহিংসতা বাংলাদেশ, Abrar Fahad murder update, র‌্যাগিং প্রতিরোধ আইন, Safe campus Bangladesh


এ জাতীয় আরো খবর