বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিকৃত ও অস্বীকার করার অপচেষ্টা চলছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট-“মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে কোনো আপস নয়”।
সোমবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে গণফোরামের প্রয়াত সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মোহসীন মন্টুর স্মরণসভায় এ কথা বলেন তিনি। জাতির ইতিহাস ও মূল্যবোধকে যারা দলীয় স্বার্থে বিকৃত করছে, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
বিএনপি সংস্কারের বিরোধী-এমন প্রচারণাকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক’ বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “যতগুলো জাতীয় কমিশন গঠিত হয়েছে, প্রতিটিতে বিএনপি দায়িত্বশীলভাবে প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। বিএনপি সংস্কারের বিপক্ষে নয়, বরং আমরা দীর্ঘদিন ধরেই প্রয়োজনীয় সংস্কারের পক্ষে কথা বলছি।”
তিনি আরও বলেন, “একটি কুচক্রী মহল বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়, যা সত্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা জনগণের অংশগ্রহণমূলক ও টেকসই রাজনৈতিক সংস্কার চাই।”
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও লন্ডনে অনুষ্ঠিত আলোচনার প্রেক্ষিতে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন ফখরুল। তার ভাষায়, “আমরা স্পষ্টভাবে আশাবাদী যে, রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে দেশ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে।”
তিনি বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু একটি দল নয়, পুরো দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্রস্তুত আছি, তবে নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে।”
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “আমরা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন চাই। এর জন্য সব গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য প্রয়োজন। কিন্তু যখন দেখি, কেউ কেউ ব্যক্তি আক্রমণ বা শালীনতাবহির্ভূত স্লোগান দিচ্ছে, তখন সত্যিই উদ্বিগ্ন হই।”
তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ব্যক্তিনির্ভর গালাগালি নয়, যুক্তিভিত্তিক আলোচনা ও সম্মিলিত চেতনার প্রয়োজন। যারা তা বুঝতে পারছে না, তারা ঐক্যের পথকেই বাধাগ্রস্ত করছে।”
কিওয়ার্ডস: মির্জা ফখরুল, বিএনপি সংস্কার, মুক্তিযুদ্ধ বিকৃতি, ২০২৫ নির্বাচন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, গণতান্ত্রিক ঐক্য, বাংলাদেশ রাজনীতি, মোস্তফা মোহসীন মন্টু, বিএনপি অবস্থান, সকালের আলো