মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

যুদ্ধবিরতির পরপরই চীনের এইচকিউ-৯বি ক্ষেপণাস্ত্র পেল ইরান:মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির নতুন ভারসাম্য?

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৭-০৯ ০১:১৯:৩২
ছবি সংগৃহিত

১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতির মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ইরান তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে চীন থেকে অত্যাধুনিক এইচকিউ-৯বি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেয়েছে। মিডল ইস্ট আই-এর বরাতে জানা যায়,২৪ জুন যুদ্ধবিরতির পরপরই ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেমটির চালান ইরানে পৌঁছায়।
একজন গালফ অঞ্চলের গোয়েন্দা কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আই-কে জানান: “ইসরাইলের হামলায় ইরানের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাডার ও প্রতিরক্ষা ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সামরিক জবাবদানের সক্ষমতা ধরে রাখতে তড়িঘড়ি করে HQ-9B সিস্টেমটি চীন থেকে আনা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ইরান স্টেলথ জেট, ক্রুজ মিসাইল ও হাইস্পিড অ্যারোস্পেস টার্গেট শনাক্ত ও প্রতিহত করতে পারবে বলে দাবি করছে দেশটির প্রতিরক্ষা সূত্র।
এই সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির বিনিময়ে ইরান চীনকে অর্থের পরিবর্তে তেল সরবরাহ করছে।
চীনা তেল আমদানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে ইরানের ৯০% তেলই গেছে চীনের বাজারে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক নির্ভরতা ও কৌশলগত ঘনিষ্ঠতাকে আরও জোরদার করছে।
চীনা প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিশ্লেষক হান শু বলেন: “চীন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ছদ্মাবরণে তার প্রতিরক্ষা বাণিজ্যকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে-ইরানের মতো মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করে তুলছে।”
এইচকিউ-৯বি হলো একটি লং রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম (LR-SAM)। এটি প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। মূলত এটি রাশিয়ার S-300 ও আমেরিকার Patriot সিস্টেমের আদলে তৈরি।
তবে এখনও পর্যন্ত এই সিস্টেমটি বাস্তব যুদ্ধে ব্যবহার হয়নি, ফলে এর কার্যকারিতা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়ে গেছে।
চীন ইতিমধ্যেই HQ-9 সিরিজ পাকিস্তান ও মিশরের কাছেও রপ্তানি করেছে।
বর্তমানে ইরান রাশিয়ান S-300 ও নিজস্ব তৈরি Bavar-373 ব্যবহার করছে। কিন্তু সামরিক বিশ্লেষকরা বলেন, “এসব সিস্টেম মার্কিন এফ-৩৫ বা ইসরাইলি রাফায়েল স্টেলথ বিমানের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর-তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।”
এই পরিপ্রেক্ষিতে HQ-9B-র সংযোজন ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ছত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের হাতে HQ-9B পৌঁছানো শুধুই একটি প্রতিরক্ষা আপডেট নয়, বরং এটি চীন-ইরান স্ট্র্যাটেজিক অ্যালায়েন্সের একটি প্রতীক।
যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল চাইলে ইরানের উপর বিমান হামলার সিদ্ধান্ত নিলে এখন আরও বেশি ঝুঁকি বিবেচনা করতে হবে।
ড. আমির সাদেকি, তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূরাজনৈতিক গবেষক বলেন: “মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য এখন কেবল সৌদি-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র বনাম ইরান নয়; এখানে চীন-ইরানের প্রযুক্তিগত সখ্যতা যুক্ত হওয়ায় হিসাব আরও জটিল হয়ে গেছে।”
মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিনিয়ত পাল্টে যাচ্ছে কৌশলগত সমীকরণ। ইরানের হাতে HQ-9B আসা মানে শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া সামরিক আধিপত্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া।
চীন-ইরান সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হলে, ভবিষ্যতে আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও সাইবার প্রযুক্তি বিনিময় হতে পারে-যা মধ্যপ্রাচ্যকে ঠেলে দিতে পারে আরও একটি নতুন ধাঁচের ঠান্ডা যুদ্ধের দিকে।

কিওয়ার্ডসঃ ইরান চীন ক্ষেপণাস্ত্র HQ-9B,ইরান ইসরাইল যুদ্ধ আপডেট ২০২৫,HQ-9B missile Iran,ইরান আকাশ প্রতিরক্ষা সিস্টেম,China Iran military deal,তেলের বিনিময়ে অস্ত্র,Iran China strategic alliance,Middle East missile defense,ইরানের সামরিক প্রস্তুতি,ইরান ইসরাইল যুদ্ধবিরতি পর পরিস্থিতি,চীনের অস্ত্র রপ্তানি ২০২৫,Iran air defense HQ-9B


এ জাতীয় আরো খবর