ঢাকা-২৮ জুন ২০২৫
রাষ্ট্রীয় সংস্কার, নির্বাচনে পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতির বাস্তবায়ন এবং দেশ ও ইসলামবিরোধী চক্রান্তের প্রতিবাদে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক মহাসমাবেশের আয়োজন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শনিবার (২৮ জুন) বিকালে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে দলটির মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ১৬ দফা দাবি সম্বলিত একটি ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
ঘোষণাপত্র পাঠকালে মাওলানা আতাউর রহমান বলেন, “ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় এই মহাসমাবেশ নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা তৈরিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। রাষ্ট্র সংস্কার ও ন্যায়ভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হলে এই আন্দোলনের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।”
তিনি জানান, সরকার গঠিত বিভিন্ন সংস্কার কমিশন থেকে প্রাপ্ত ৬টি প্রস্তাবনা তারা ইতোমধ্যেই পর্যালোচনা করে সংশোধিত মতামত প্রদান করেছেন। এখন সময় এসেছে, জনতার মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো পুনর্গঠন করার।
সমাবেশ থেকে ঘোষিত ১৬ দফার মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো:
১) আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসকে সংবিধানের মূল নীতিতে পুনঃস্থাপন করা, যা বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
২) জাতীয় সংসদের উভয়কক্ষে সংখ্যানুপাতিক পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করা।
৩) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দাবির ধারাবাহিকতায় একটি “জুলাই সনদ” ঘোষণা এবং জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণের রূপরেখা প্রকাশ।
৪) ভবিষ্যতে যাতে দলীয়করণ, স্বৈরাচার ও লুটপাট রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার না করতে পারে, সেজন্য মূলগত রাষ্ট্র সংস্কার জরুরি বলে দাবি জানানো হয়।
৫) জনপ্রশাসনের শুদ্ধি অভিযান—যারা আগের শাসনামলে স্বেচ্ছাচারিতার অংশ ছিলেন, তাদের অপসারণের দাবি এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার আহ্বান।
৬) বিদেশে পালিয়ে থাকা অপরাধীদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার এবং অর্থপাচারকারীদের সম্পদ উদ্ধারে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান।
৭) সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও খুন-খারাবির বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কার্যকর করার দাবি জানানো হয়।
8) দেশবিরোধী সকল চুক্তি প্রকাশ ও বাতিলের আহ্বান, বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে চুক্তির ক্ষেত্রে জনস্বার্থ রক্ষা নিশ্চিত করতে বলা হয়।
৯) জাতীয় নির্বাচনের আগে সকল স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব।
১০) দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীদের নির্বাচন থেকে অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি।
১১) সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ গঠনের পূর্বে তফসিল ঘোষণায় বিরোধিতা, এবং ‘যেমন-তেমন’ নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সেজন্য স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
১২) ঘুষ ও রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ, মিথ্যা মামলার অবসান এবং ধর্মবিরোধী কার্যক্রমে কঠোর অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
১৩) জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার তাগিদ দেওয়া হয় সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে।
১৪) দুর্নীতিবাজ ও লুটেরা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক ও ইসলামি শক্তির ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়।
১৫) রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ইসলামের নৈতিকতা ও আদর্শ অনুশীলনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়, যা শান্তি, নিরাপত্তা ও অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য বলে অভিহিত করা হয়।
১৬) ভারতের সাথে কৃত সকল চুক্তি জনসন্মুখে প্রকাশ করতে হবে এবং সকল দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল করতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, এ ১৬ দফা দাবি নতুন রাজনৈতিক সংলাপের ভিত্তি হয়ে উঠবে এবং আগামী নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসেবে এগুলোকে সামনে রাখা হবে। জনগণের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হলে গণআন্দোলন আরও বেগবান হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
বক্তব্যে শেষপর্যায়ে আতাউর রহমান বলেন, “জাতীয় স্বার্থে, ইসলামি মূল্যবোধে ও জনগণের অধিকার রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। আজকের এই জনসমুদ্রই প্রমাণ করে-বাংলাদেশের ভবিষ্যত কোন পথে চলবে।”
আপডেট জানতে চোখ রাখুন ‘সকালের আলো ডট কম’-এ। ভবিষ্যত কর্মসূচির খবর ও বিশ্লেষণ শিগগিরই।