শুক্রবার (২০ জুন) স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৯ মিনিটে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক প্রদেশে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১ এবং এটি উৎপত্তি হয় সেমনান প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে, ভূমি থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্পটি কুম, সেমনান ও তেহরানসহ উত্তর ইরানের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়। আকস্মিক কম্পনে আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ‘সামান্য ক্ষতি’ হয়েছে কয়েকটি স্থানে, তবে বড় ধরণের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ মেলেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পটির গভীরতা কম হওয়ায় লোকালয়ে এটি বেশি অনুভূত হয়েছে, তবে সৌভাগ্যক্রমে এর কেন্দ্র ছিল অপেক্ষাকৃত জনবসতি-হীন এলাকায়।
সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই ভূমিকম্প বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষ করে, ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগকে ঘিরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ইসরায়েলের বিমান হামলা ও ইরানের পরমাণু স্থাপনা ঘিরে চলমান অস্থিরতার মধ্যে এই ভূমিকম্প নতুন করে আতঙ্ক যোগ করেছে সাধারণ মানুষের মনে।
ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ ইরানে অতীতেও একাধিক ভয়াবহ কম্পনের নজির রয়েছে। ২০০৩ সালে দেশটির বাম শহরে ৬ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। ফলে, বর্তমান কম্পনকে ঘিরেও স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধার সংস্থাগুলো উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জরুরি ব্যবস্থাপনা দলগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ শুরু করেছে। স্কুল, হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
সংক্ষেপে:
ভূমিকম্পের মাত্রা: ৫.১
উৎপত্তিস্থল: সেমনান শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে
গভীরতা: ১০ কিলোমিটার
ক্ষয়ক্ষতি: উল্লেখযোগ্য নয়, হতাহতের খবর নেই
প্রতিক্রিয়া: জনগণের মধ্যে আতঙ্ক, প্রশাসন সতর্ক
পটভূমি: চলমান মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় নতুন উদ্বেগ
এই পরিস্থিতি কতটা গুরুতর রূপ নেয় তা নির্ভর করবে আফটারশক বা পরবর্তী কোনো বড় ধরনের কম্পনের ওপর। তবে আপাতত দেশটির মানুষ ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতায় ফেরার চেষ্টা করছেন।