বুধবার, এপ্রিল ২৯, ২০২৬

শহীদ মিনারে ‘বাংলাদেশ রিপাবলিক পার্টি’র অভিষেক: শৃঙ্খলা,সাহস আর বিকল্প রাজনীতির অঙ্গীকার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৬-২০ ১৬:০৩:৫৭
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা-২০ জুন ২০২৫
বৃষ্টির তোয়াক্কা না করেই জড়ো হয়েছেন শত শত মানুষ। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে তৈরি হয়েছে নতুন এক রাজনৈতিক বার্তার প্রতিধ্বনি-‘সবার উপরে দেশ’। এ বার্তার বাহক হিসেবে শুক্রবার আত্মপ্রকাশ করল নতুন রাজনৈতিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ রিপাবলিক পার্টি’ (BRP)। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে দলটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান হয়ে উঠেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা।
বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠান শুরু হলেও একটানা বৃষ্টিপাতে রাজধানীর রাজপথ কিছুটা অচল থাকলেও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছিল ভিন্ন চিত্র। ছাতা মাথায়, কাঁধে ব্যাগ, হাতে পতাকা-দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত হাজারো নেতা-কর্মী জড়ো হয়েছেন একটি নতুন স্বপ্ন নিয়ে।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হয়। এরপর মঞ্চে একে একে বক্তব্য রাখেন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তব্যে উঠে আসে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থবিরতা, নেতৃত্বশূন্যতা এবং বিকল্প শক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা।
দলের একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বলেন, "আমরা লুটেরা রাজনীতির ঘুণ ধরা সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এক গণতান্ত্রিক দল গঠন করতে চাই। ‘সবার উপরে দেশ’-এটা শুধু স্লোগান নয়, আমাদের নীতি।”
দলটির ব্যতিক্রমী দিক হচ্ছে-এখানে রাজনীতির অভিজ্ঞদের পাশাপাশি রয়েছেন বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির প্রতিনিধি। সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনজীবী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে গঠিত এই দলের নেতাদের মধ্যে রয়েছে এক ধরনের শৃঙ্খলা, পেশাগত দক্ষতা এবং রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা।
জুলাই-আগস্টে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছিল, তার সঙ্গে জড়িত নেতৃবৃন্দের অনেকেই এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন। তাছাড়া আন্দোলনে নিহত এক ছাত্রের পিতা মঞ্চে এসে বলেন, “এই দলে সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা আছেন। সেনাবাহিনীতে তারা যেভাবে শৃঙ্খলা শিখেছেন, সেই শৃঙ্খলা যদি রাজনীতিতে আনেন-তবে এ দল সত্যিকারের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।”
অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রতিনিধিরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। কারও কণ্ঠে ছিল দীর্ঘদিনের হতাশা, কারও মুখে ছিল ক্ষোভ। এক নারী প্রতিনিধি বলেন,
“আমরা পুরনো ব্যর্থ রাজনীতি আর চাই না। আমরা চাই একটা সংগঠিত, সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ রাজনৈতিক কাঠামো। রিপাবলিক পার্টিই হতে পারে সেই নতুন দিগন্ত।”
অনুষ্ঠান শেষে দলটির প্রথম কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার কথা রয়েছে। জানা গেছে, এই কমিটিতে সাবেক সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তরুণ শিক্ষিতদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে। সূত্রমতে, নেতৃত্বে থাকবে সম্মিলিতভাবে অভিজ্ঞতা, সততা ও সাহসের প্রতিচ্ছবি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান রাজনৈতিক স্থবিরতার প্রেক্ষাপটে ‘বাংলাদেশ রিপাবলিক পার্টি’র মতো বিকল্পধর্মী উদ্যোগ জনগণের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি করতে পারে। বিশেষত যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে বারবার আস্থা হারানো, দুর্নীতি, গোষ্ঠীগত বলয়ের দাপট দেখা যায়-তখন সাধারণ মানুষ এক ‘অরাজনৈতিক রাজনৈতিক শক্তি’র দিকে তাকিয়ে থাকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহমুদ আল-হাসান বলেন, “এই দল যদি সত্যিই গণতন্ত্রের চর্চা করে, অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ধরে রাখে এবং তরুণদের নেতৃত্বে জায়গা দেয়-তবে তারা দীর্ঘমেয়াদে ‘বিকল্প শক্তি’ হয়ে উঠতে পারে।”
বাংলাদেশ রিপাবলিক পার্টির আত্মপ্রকাশ হয়েছে প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে। এটি তাদের অঙ্গীকারের প্রাথমিক প্রতিফলন হতে পারে। তবে রাজনীতির দীর্ঘ পথে এ দল কতটা টিকবে, কতটা মূল্যবোধ ধরে রাখবে-সেটা সময়ই বলে দেবে।

উল্লেখযোগ্য :
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দলের আত্মপ্রকাশ
বৃষ্টিপাতেও অংশ নেন হাজারো নেতা-কর্মী
দলের নেতৃত্বে রয়েছেন পেশাজীবী ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা
ঘোষণা আসছে কেন্দ্রীয় কমিটির

স্লোগান: ‘সবার উপরে দেশ’
জনগণের প্রত্যাশা: বিকল্প, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও স্বচ্ছ রাজনীতি


এ জাতীয় আরো খবর