বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

ইরান সংকটে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের একমত: ‘পারমাণবিক অস্ত্র কখনো নয়’

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৬-২০ ১২:২২:৪৬
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা-২০ জুন ২০২৫, 
ইরান যেন কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি কিংবা অধিকার করতে না পারে-এই বিষয়ে একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। লন্ডনে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এবং মার্কো রুবিও এক যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি স্পষ্ট করেন।
শুক্রবার লন্ডনে আয়োজিত বৈঠকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যামি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনাকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক ও উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করে বলেন, “আমরা পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিরোধে কূটনৈতিকভাবে একসঙ্গে কাজ করছি। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের একটি জানালা উন্মুক্ত হতে পারে।”
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, “যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অবস্থান সুস্পষ্ট-ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। আমরা কূটনীতির মাধ্যমে এই সংকট সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এই যৌথ অবস্থান এমন সময় সামনে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। হোয়াইট হাউজ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ট্রাম্প এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ঘনিষ্ঠ অবস্থান কূটনৈতিক চাপ বাড়াবে ইরানের ওপর। তবে এটাও স্পষ্ট হচ্ছে যে, সামরিক বিকল্প এখনও আলোচনার টেবিল থেকে সরিয়ে রাখা হয়নি
বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও ইরান এখনো তাদের পারমাণবিক কার্যক্রমের বিষয়ে নমনীয় অবস্থান নেয়নি। একইসঙ্গে তারা পশ্চিমা হুমকিকে ‘অবৈধ ও উসকানিমূলক’ বলেও দাবি করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ‘নির্বিচার চাপ প্রয়োগের’ নীতির সমালোচনা করেছেন।
যুক্তরাজ্যের নতুন লেবার সরকার কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল দুই দেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ বৈঠক। বৈঠক শেষে ল্যামি বলেন, “বিশ্বের নিরাপত্তা এখন পরস্পরের সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাজ্য এই সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে চায়।”
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নজর এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। যুক্তরাজ্যের মধ্যস্থতাকে কেন্দ্র করে যদি আলোচনার একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি হয়, তবে উত্তপ্ত পরিস্থিতি কিছুটা হলেও প্রশমিত হতে পারে। তবে সামরিক সমীকরণ এখনো চূড়ান্তভাবে টেবিল থেকে সরেনি।

 


এ জাতীয় আরো খবর