মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংযম ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। চলমান উত্তেজনাকে "বাস্তব সংঘাতের দিকে ধাবমান" বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “উত্তেজনা বাড়িয়ে নয়, বরং আলোচনা এবং কৌশলগত সংযমই এখন সবচেয়ে জরুরি।”
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাতে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ওয়াশিংটনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের কয়েক দফা আলোচনার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, “আমার কাছে মনে হয়, এই সমস্যার একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ হচ্ছে কূটনৈতিক সমাধান। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অতীতে আলোচনা করেছি, এবারও সেই ধারায় এগোতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে কোনো ভুল পদক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অনিশ্চিত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।”
ওয়াশিংটনে ল্যামি, আলোচনায় আসছেন রুবিও এই সময়োপযোগী আহ্বানের প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এখন যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। তিনি ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ইরান অভিযান, ইসরায়েল-ইরান সম্পর্ক, এবং পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হবে। যুক্তরাজ্য সেখানে স্পষ্টভাবে জানাবে, তারা যুদ্ধ নয়, শান্তিপূর্ণ আলোচনার পক্ষে।
ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র বলেছেন, “যুক্তরাজ্য বিশ্বাস করে, এই ধরনের সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ধৈর্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ল্যামি ও রুবিওর আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে উত্তেজনা হ্রাস ও দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।”
বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল যুদ্ধপন্থী প্রবণতার তুলনায় অনেকটাই সংযত ও কৌশলগত। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্য একটি বৈশ্বিক ভারসাম্যের ভূমিকা পালনের চেষ্টা করছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন তলানিতে ঠেকেছে। পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব ও সামরিক প্রস্তুতির কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এমন সময়ে যুক্তরাজ্যের সরব কূটনৈতিক ভূমিকা পশ্চিমা জোটের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য ও যুদ্ধবিরোধী চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্ব পররাষ্ট্রনীতিতে যুক্তরাজ্যের নতুন লেবার নেতৃত্ব যদি কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে, তবে এই অঞ্চলের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ওয়াশিংটন ও লন্ডনের আলোচনা বিশ্ব নিরাপত্তা পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।