সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬

উত্তরায় ‘র‍্যাব পরিচয়ে’ কোটি টাকার ডাকাতি: বহিষ্কৃত পুলিশ-সেনাসদস্যসহ ধরা পড়লো সংঘবদ্ধ চক্র

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৬-১৯ ২০:৩৭:২৭
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা | ১৯ জুন ২০২৫
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় 'র‍্যাব' পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান নগদ-এর পরিবেশক প্রতিনিধিদের কাছ থেকে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত সংঘবদ্ধ একটি ডাকাতচক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), উত্তরা বিভাগ ও উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন-
মো. হাসান (৩৫)
গোলাম মোস্তফা ওরফে শাহিন (৫০) — বাংলাদেশ পুলিশের বহিষ্কৃত কনস্টেবল
শেখ মো. জালাল উদ্দিন ওরফে রবিউল (৪৩) — সেনাবাহিনীর বহিষ্কৃত সার্জেন্ট
মো. ইমদাদুল শরীফ (২৮)
মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে শিপন (২৭)

ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি কালো হাইয়েস মাইক্রোবাস এবং ৩৪ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রের আরও সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে ১৪ জুন (শুক্রবার) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে, যখন নগদের চার কর্মচারী উত্তরা ১২ নম্বর সড়কের বাসা থেকে নগদের অফিসে যাচ্ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিল ১ কোটি ৮ লাখ ১১ হাজার টাকা, চারটি ব্যাগে রাখা।
রাস্তায় ১২ ও ১৩ নম্বর সড়কের সংযোগস্থলে হঠাৎ করে একটি কালো মাইক্রোবাস এসে তাদের পথরোধ করে। গাড়ির বাইরে ছিল ‘র‍্যাব’ লেখা কটি, ভেতরে ছিল ৬-৭ জন মুখোশধারী, সশস্ত্র ব্যক্তি। তারা নিজেদের র‍্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে চার কর্মচারীকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তিনজনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। পরে তুরাগ থানার ১৭ নম্বর সেক্টরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে উত্তরা পশ্চিম থানায় এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপি’র উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার মো. মুহিদুল ইসলাম।
তিনি জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত হাইয়েস মাইক্রোবাসের চালক মো. হাসান-কে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মাইক্রোবাসটি জব্দ করে এবং মূল পরিকল্পনাকারী বহিষ্কৃত কনস্টেবল গোলাম মোস্তফাকে উত্তরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে তার কাছ থেকে ১৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা উদ্ধার করে।
এরপর একে একে গ্রেপ্তার করা হয় ইমদাদুল শরীফ (৮ লাখ ৪ হাজার টাকাসহ), বহিষ্কৃত সেনাসদস্য জালাল উদ্দিন (৬৩ হাজার টাকাসহ) এবং সাইফুল ইসলামকে। জালাল উদ্দিনের নামে ব্যাংকে জমা রাখা ১২ লাখ টাকা জব্দের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ডিবি জানায়, অভিযানে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে-
র‍্যাব ও পুলিশের নকল আইডি কার্ড
সিগন্যাল লাইট ও লাঠি
সেনাবাহিনীর লোগোযুক্ত মানিব্যাগ
বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই
মোবাইল ফোন

এই সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করে চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভয়ভীতি দেখিয়ে ডাকাতি করতো।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা পূর্বেও র‍্যাব-পুলিশ পরিচয়ে দেশজুড়ে একাধিক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ে অংশ নিয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই ও ছদ্মবেশী সরকারি পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগে একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পেশাদারভাবে কাজ করে আসছিল। দলনেতা গোলাম মোস্তফা ও জালাল উদ্দিন উভয়েই নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাক্তন সদস্য হওয়ায় তারা চৌকসভাবে পুলিশি অভিযানের ধরন সম্পর্কে জানত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করেই সহজে টার্গেটগুলোকে ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করতো।
রাজধানীর মতো কড়া নিরাপত্তার শহরে ‘র‍্যাব’ পরিচয়ে এমন অভিনব কৌশলে কোটি টাকা লুটের ঘটনা নগদ প্রতিনিধিদের ঝুঁকি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে দ্রুত তদন্ত, প্রযুক্তি সহায়তা ও সমন্বিত অভিযানে ডিবির সফলতা রীতিমতো প্রশংসার দাবিদার।

 


এ জাতীয় আরো খবর