ঢাকা-২০ জুন ২০২৫
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েলের ভয়াবহ সংঘাতের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রস্তাব দিয়েছেন একটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে পরিচালিত শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির রূপরেখা। তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কের ভিত্তিতে ইরানের পরমাণু প্রকল্পে রাশিয়ার তত্ত্বাবধানের আগ্রহের কথা জানান তিনি।
গত ১৮ জুন সেন্ট পিটার্সবার্গে এক সংবাদ সম্মেলনে, পুতিন বলেন, “আমরা ইরানকে প্রস্তাব দিয়েছি, তারা চাইলে রাশিয়ার তত্ত্বাবধানে তাদের ইউরেনিয়াম মজুত ও পারমাণবিক কার্যক্রম চালাতে পারে-এটি আন্তর্জাতিক আস্থার সংকট নিরসনে একটি বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে।”
তিনি আরও জানান, ইরানের বুশেহার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার প্রায় ২০০ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী কর্মরত আছেন এবং এর চুল্লি নির্মাণের দায়িত্বও মস্কোর।
পুতিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ বিষয়ে তাঁর আলোচনা হয়েছে এবং নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন যে, “ইসরায়েল বুশেহার স্থাপনায় কোনো ধরনের হামলা চালাবে না।”
এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ঘিরে চলমান শঙ্কা কিছুটা কমাতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পুতিন বলেন, “একটি চুক্তি সম্ভব, যা একদিকে ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর হবে।”
এই প্রস্তাব এমন এক সময় এল, যখন ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষপর্যায়ের কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হন। এর পর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে।
পুতিনের প্রস্তাবকে অবজ্ঞা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “পুতিনের উচিত আগে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান করা। নিজ দেশের আগুন না নেভানো রাষ্ট্রনেতার কাছ থেকে মধ্যস্থতার আশা করাও নিরর্থক।”
রুশ প্রেসিডেন্ট এক্ষেত্রে জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক জানুয়ারি মাসের চুক্তিতে কোনো সামরিক সহায়তার ধারা নেই।
“ইরান এখন পর্যন্ত আমাদের কাছ থেকে কোনো সামরিক সহায়তা চায়নি,” -এমন মন্তব্য করে তিনি পরিষ্কার করেন যে, এই আলোচনার প্রস্তাব শুধুই কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ প্রয়াস।
পুতিন বলেন, “আমরা আজকের ইরানে দেখছি, জনগণ রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশে ঐক্যবদ্ধ। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত সংঘর্ষ নয়, আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনা।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রস্তাব রাশিয়ার আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রভাব প্রতিষ্ঠার অংশ হতে পারে। তবে একইসঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য একটি সম্ভাব্য কৌশলগত উইন্ডোও খুলে দিচ্ছে।
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির উত্তাপ কমাতে পুতিনের কূটনৈতিক প্রস্তাব আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। যদিও পশ্চিমা বিশ্ব এ নিয়ে দ্বিধায় থাকলেও, তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে এই প্রথমবার তৃতীয় পক্ষের এত স্পষ্ট মধ্যস্থতা প্রস্তাব সামনে এলো। এখন দেখার বিষয়, উভয় পক্ষ বা জাতিসংঘ এই আলোচনাকে কতটা গুরুত্ব দেয়।