ঢাকা- ১৯ জুন ২০২৫
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘর্ষ নিয়ে জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। শুক্রবার (২০ জুন) সকাল ১০টায় নিউইয়র্কে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
বৈঠক আয়োজনের অনুরোধ জানায় ইরান। দেশটির অভিযোগ, ইসরায়েল যে বিমান হামলা চালিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট উদাহরণ এবং এতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িত। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ইরান দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ কামনা করে।
ইরানের আবেদনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের প্রভাবশালী সদস্য চীন ও রাশিয়া। তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে পাকিস্তানও। এই তিন দেশের যৌথ সমর্থনেই দ্রুত বৈঠক আহ্বানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠকে ইসরায়েল-ইরানের সামরিক উত্তেজনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক উত্তাপ সৃষ্টি হতে পারে।
১৩ জুন ইসরায়েল হঠাৎ করে ইরানের অভ্যন্তরে কয়েকটি সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও গবেষণা কেন্দ্র। ইসরায়েলের দাবি, এগুলো ইরানের আগ্রাসনের প্রস্তুতি ঘাঁটি।
প্রতিশোধ নিতে দেরি করেনি ইরান। পাল্টা জবাবে তারা শতাধিক ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও শহরে আঘাত হানে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা এই পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশের বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন, ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য অবকাঠামো।
এর আগেও গত ১৩ জুন এই ইস্যুতে একবার জরুরি বৈঠকে বসেছিল নিরাপত্তা পরিষদ। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি পরিষদটি। বরং এর পরেই সংঘাত আরও বেড়েছে। এবার ইরানের পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ আসায় এবং নতুন করে সমর্থন জুটে যাওয়ায় আলোচনায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।
ইসরায়েল-ইরান দ্বন্দ্ব শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পারমাণবিক শক্তিধর দুটি দেশের সরাসরি সংঘর্ষে যেভাবে উচ্চ-প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন সামরিক প্রতিযোগিতার আশঙ্কাও তৈরি করছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এর আগে দু’পক্ষকেই সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। ইতোমধ্যে তেলের দাম বেড়েছে ৭ শতাংশের বেশি। বিশ্ববাজারে নিরাপত্তাহীনতা ও সরবরাহ চেইনের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা শঙ্কিত।
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে এই নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন বিশ্বদৃষ্টি। যুদ্ধ বিরতির কোনো প্রস্তাব আসবে, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে আরও তর্ক বাড়বে-সবই নির্ভর করছে আজকের আলোচনার ফলাফলের ওপর।