মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

ইসরায়েলে নিরাপত্তা সতর্কতা: তিন দিনের জন্য বন্ধ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস, বাড়ছে যুদ্ধ শঙ্কা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
  • ২০২৫-০৬-১৮ ১১:৩৩:৩৮
ছবি সংগৃহিত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কায় জেরুজালেমে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তিন দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে তেল আবিবে কনস্যুলার কার্যক্রমও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার (১৮ জুন) থেকে শুক্রবার (২১ জুন) পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে, জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ থেকে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন দূতাবাস জানায়, "বর্তমান সময়ের চরম নিরাপত্তা হুমকি, বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল সরাসরি সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে আমরা আমাদের স্টাফ ও নাগরিকদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চাই।"
এই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত মার্কিন সরকারী কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ আবাসস্থলের ভেতরে কিংবা আশেপাশের সীমিত এলাকায় অবস্থান করবেন।”
দূতাবাস জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়ন এবং সব প্রধান সমুদ্রবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে যাত্রী ও পণ্য চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইসরায়েল থেকে মার্কিন নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) তেল আবিবের আশপাশের কিছু এলাকাকে 'ঝুঁকিপূর্ণ' ঘোষণা করে সেখানকার নাগরিকদের সরে যেতে বলেছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এ ঘোষণা প্রকাশিত হয়েছে, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, “পূর্ব দিক থেকে আসা দুটি ড্রোনকে ডেড সি অঞ্চলে ধ্বংস করা হয়েছে। এই ড্রোনগুলো সরাসরি ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।”
এর আগে ইরান থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলেও জানায় আইডিএফ।
জেরুজালেম শহরের বাসিন্দারা বলছেন, দিন দিন সাধারণ নাগরিকদের চলাফেরার স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে আসছে। বাণিজ্যিক এলাকা, স্কুল, হাসপাতাল এবং জনসমাগমস্থলে সেনা টহল বৃদ্ধি পেয়েছে।
একজন স্থানীয় অভিভাবক জানান, “প্রতিদিন সকালে মনে হয় আজই হয়তো কিছু একটা হবে। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছি।”
বিশ্ব রাজনীতির বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ও ইসরায়েল মুখোমুখি সংঘাতে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে, তবে চাপে রাখতে কৌশলগত হামলা ও পাল্টা হুমকি চালু থাকবে। এ অবস্থায় তৃতীয় পক্ষের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাই নির্ধারক হতে পারে সংঘাতের পরিণতি।
যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বন্ধ, বিমানবন্দর স্থগিত এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন অস্বস্তিতে ভরা। কূটনৈতিক সতর্কতা যতই দেওয়া হোক না কেন, বাস্তবতার মাটিতে যুদ্ধের শঙ্কা বারবার কড়া নাড়ছে। এখন শুধু সময় বলবে, এই উত্তেজনা কতদূর গিয়ে থামে।

সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স, আল জাজিরা, আইডিএফ বিবৃতি


এ জাতীয় আরো খবর