মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

পারমাণবিক অস্ত্রের দ্বারপ্রান্তে ইরান? বিভ্রান্তিকর দাবির ভিড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
  • ২০২৫-০৬-১৮ ০২:৪৪:৩৯
ছবি সংগৃহিত

ইরান কি সত্যিই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে? নাকি এটি কেবল ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশমাত্র? সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভিন্নমত গোয়েন্দা প্রতিবেদন এই প্রশ্নকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইসরায়েল স্পষ্টভাবে দাবি করছে-ইরান খুব দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে, যা থামাতেই তাদের সামরিক অভিযান। গত সপ্তাহে ইরানের বিভিন্ন পারমাণবিক সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় চালানো বিমান হামলাও তারা এই কারণেই যৌক্তিক বলে ব্যাখ্যা করেছে।
কিন্তু এর ঠিক বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সিএনএন-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চারজন শীর্ষ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছে, ইরান বর্তমানে সক্রিয়ভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে-এখন শুরু করলেও একটি কার্যকরী ও নিক্ষেপযোগ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ইরানের অন্তত তিন বছর সময় লাগবে।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) এক বিবৃতিতে জানায়, ইরান বর্তমানে এমন মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সঞ্চয় করেছে, যা থেকে সিদ্ধান্ত নিলে নয়টি পারমাণবিক বোমা তৈরি সম্ভব। তবে, ইউরেনিয়াম মজুদ থাকা মানেই অস্ত্র প্রস্তুত নয়। অস্ত্র বানানোর জন্য জটিল প্রযুক্তি, নিক্ষেপযোগ্য সিস্টেম এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন-যা এখনো অনুপস্থিত।
মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের (DNI) প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড স্পষ্টভাবে বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি ২০০৩ সালেই পারমাণবিক অস্ত্র প্রকল্প স্থগিত করেছেন, এবং সেটি আবার চালু করার কোনো নির্দিষ্ট অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, “বর্তমান গোয়েন্দা তথ্যে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সক্রিয়ভাবে ফিরেছে।”
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বরাবরের মতোই বলে আসছেন, “ইরান এখন বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় পারমাণবিক হুমকি।”
তার এই অবস্থানের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মূল্যায়নকে উপেক্ষা করে তিনি বলেন, “ইরান এখন বোমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, এবং তারা খুব দ্রুত এগোচ্ছে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে যেভাবে ভিন্নমত উঠে আসছে, তা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা তৈরির পাশাপাশি তথ্য বিভ্রান্তির একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি করছে। মার্কিন প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার ভিন্ন অবস্থান রাজনৈতিক সংকেত বহন করছে। একইসঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উগ্রপন্থী নেতাদের এমন অবস্থান ভবিষ্যতের সংঘাতের মঞ্চ তৈরি করছে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্ব রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানের চারপাশে যেভাবে সামরিক এবং কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো হচ্ছে, তা একদিকে যেমন যুদ্ধ সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানাবে কি না, তার উত্তর ভবিষ্যতের হাতে। কিন্তু এই মুহূর্তে সত্য আর রাজনৈতিক প্রচারণার মধ্যে যে বিভ্রান্তির দেয়াল তৈরি হয়েছে, তা শুধু ইরান-ইসরায়েল নয়—পুরো বিশ্বের জন্যই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।

 


এ জাতীয় আরো খবর