মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

ভাগ্য (২)

  • গোলাপ মাহমুদ সৌরভ
  • ২০২৩-০৮-১৫ ০৯:৪৫:৪৫

সজল বাড়িতে গিয়ে মাকে বললো, মা বাবার খাবার পাঠানো হয়েছে। না, কে নিয়ে যাবে বল,তুই ছাড়া কে আছে নিয়ে যাওয়ার মতো। ঠিক আছে মা,তুমি ভাত তরকারি বলে দিয়ে একটা গামছা দিয়ে বেঁধে দাও আমি নিয়ে যাচ্ছি। মা তারাহুরো করে ভাত তরকারি গামছায় বেঁধে দিলো সাথে এক মগ পানি। সজল খাবার এবং সাথে একটা বই নিয়ে জমিতে রওনা দিলো। সজল দূর থেকে দেখলো বাবা কাদামাখা শরীর নিয়ে ক্ষেতের লাইলে বসে আছে একপেট ক্ষুধা নিয়ে আর তাকিয়ে দেখছে সজল কখন আসবে। কিছুক্ষণ পর সজল তার বাবার কাছে পৌঁছাল। সজল এসেছিস বাবা আমি কখন থেকে তর অপেক্ষা করছি, জানিস বাজান আজ এতোটাই পেটে ক্ষুদার্ত কাজ করতে পারছিলাম না তাই কাজকর্ম বাদ দিয়ে লাইলে বসে আছি তুই আসবি বলে। সরি,বাবা আজ অনেক দেরি হয়ে গেলো, এই নাও বাবা তারাতাড়ি খেয়ে নাও। দে বাবা আর পারছিনা। বাবাকে খাবার দিয়ে সজল বই নিয়ে বসে পড়লো। বাবা হাতটা কোনরকম ধুইয়ে খাওয়া শুরু করলো। কয়েক লোকমা খেয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো তুই খাইসত বাজান? না বাবা, তুমি খাও আমি বাড়িতে গিয়ে খাইমু। বাজান তোর খুব কষ্ট হয় তাইনা রে? না বাবা কষ্ট হবে কেন আমার কাছে ভালোই লাগে তাছাড়া আমি কিছুই মনে করিনা কারণ আমরা গরীব কোন রকম আমাদের সংসার চলে তাও আবার তোমার একা কামাই দিয়ে সজল বললো। এদিকে আয় বাজান আমার লগে কয়ডা খাইয়া লয়। না তুমি খাও বাবা। বাবা হাতে লোকমা নিয়ে সজলের মুখে তুলে দিলো। আচ্ছা বাজান তুই ছোট মানুষ তরে দিয়ে আমি কতো কাজকর্ম করাই তারপরও তুই লেখাপড়া করস জানিস বাবা মাঝে মাঝে আমার কাছে আমারে অপরাধী মনে হয়। কেন বাবা এমন কথা বলছো কেন? আল্লাহ আমাদের কে এতোটাই গরীব বানাইছে ঠিক মতো তিন বেলা খাবার খাইতে পারিনা তকে ভালো কাপড়চোপড় কিনে দিতে পারিনা ভালো খাওয়াতে পারিনা এই দুপুর বেলা পোড়া মরিচ কাঁচা পেঁয়াজ দিয়ে পান্তা ভাত খাইলাম। থাক বাবা তুমি এসব বলো না এটাই আমাদের ভাগ্য, আল্লাহ আমাদের রিজিকে যা রাখছে তাই খাই, না খেয়েত নাই তাতেই আলহামদুলিল্লাহ, তুমি দেখো বাবা একদিন আমাদের এমন পরিস্থিতি থাকবেনা আমি যেদিন পড়াশোনা করে অনেক বড়ো হবো সেদিন আমাদের সব বদলে যাবে। সত্যি সজল তোর মতো সন্তানের বাবা হতে পেরে আমি আনন্দিত এবং গর্ববোধ করি, আমার বিশ্বাস তুই একদিন অনেক বড়ো হবি, সেদিন আমাদের সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে। 

সত্যিই সমাজের হতদরিদ্র মানুষ গুলোর মনে অনেক স্বপ্ন থাকে একদিন তারাও দারিদ্র্য মুক্ত পরিবার হবে এবং সুখে শান্তিতে বসবাস করবে। সজল সময় কখনো অপচয় করে না সবসময় কাজের সময় কাজ আর পড়ার সময় পড়ে সময় পার করে। বাবা ভাত খাচ্ছে এদিকে সজল বই পড়ছে। সজল লেখা পড়ার প্রতি খুবই মনোযোগী, পাড়ার আঁট দশটা ছেলের মতো পাড়ায় পাড়া ঘুরে আর খেলাধুলা করে না কখনো কারু সাথে ঝগড়াঝাটিও করে না, নম্র, ভদ্র খুবই লাজুক প্রকৃতির ছেলে সজল। সব সময় বড়দের সাথে সম্মানের সাথে কথা বলে। এতোক্ষণে বাবার খাওয়া শেষ হলো আর সজল মনোযোগ দিয়ে বই পড়ছে। সজল বললো বাবা তুমি খেয়েছো এবার একটু জিরিয়ে নাও তারপর কাজ করো। সজল তুই এতো ভালো কেনরে বাবা, তুই দেখি সবসময় আমার প্রতি খেয়াল রাখস তোর মতো এমন সন্তান যাদের ঘরে আছে সেই ছেলের বাবা-মা কি কোনদিন কষ্টে থাকতে পারে, সজলের বাবা বললো। বাবা তুমি একটু জিরিয়ে নাও আমি বই রেখে ক্ষেতে করছি। খাওয়ার পরে সবার দেহে একটু ক্লান্তি আসে। সজলের বাবা ক্ষেতের লাইলে লম্বা হয়ে শুইয়ে পড়লো,ক্লান্ত দেহে কখন ঘুমিয়ে পড়লো বুঝতে পারেনি। এদিকে সজল আপন মনে কাজ করে যাচ্ছে। হঠাৎ সজল তাকিয়ে দেখলো তার বাবা খুব আরামে ঘুমাচ্ছে তাই সজলের মনে খুবই মায়া হলো বাবা ডাক না দিয়ে নিজেই কাজ করছে। কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো, মসজিদের মাইকে মোয়াজ্জেমের আযান শুনা যাচ্ছে। হঠাৎ করে আযানের শব্দ কানে এসে লাগলো তাই ঘুমটাও ভেঙে গেলো। বাবা তোমার ঘুম ভেঙেছে সজল বললো? সজল আমি একটু চোখ বুঝেতেই কখন ঘুমিয়ে গেছি বলতে পারিনা তুই আমাকে ডাক দিলি না কেন। আমি দেখছি তুমি খুব আরামে ঘুমাচ্ছো তাই তোমাকে ডাক দেইনি, চলো আজকে আর কাজ করতে হবেনা আমরা বাড়িতে চলে যাই। চল বাবা আজকে আর ভালো লাগতাছে না বাড়িতে চলে যাই সজলের বাবা বললো। দুজনেই বাড়িতে চলে গেলো।


এ জাতীয় আরো খবর