শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬

মালয়েশিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৫ জনের

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সকালের আলো
  • ২০২৫-০৬-০৯ ১৩:১১:৫৮
ছবি সংগৃহিত

মালয়েশিয়ার পেরাক রাজ্যে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী। সোমবার (৯ জুন) ভোররাতে থাইল্যান্ড সীমান্তঘেঁষা ইস্ট-ওয়েস্ট হাইওয়েতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩১ জন।
স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থী বহনকারী একটি বাস ও একটি মিনিভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটি উল্টে যায় এবং মিনিভ্যানটি ছিটকে পড়ে পাশের খাদে।
দুর্ঘটনার সময় বাসে থাকা শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই ছিলেন উত্তরাঞ্চলের একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তারা একটি শিক্ষা সফর শেষে ফিরে আসছিলেন। বাস ও মিনিভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষের সময় অধিকাংশ শিক্ষার্থী ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানা গেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানায়, ঘটনাস্থলে ১৩ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নিলে আরও দুজন মারা যান। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে হাইড্রোলিক কাটার ব্যবহার করতে হয়েছে। কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে নিজেরাই বের হতে পারলেও, অনেকে ছিলেন চেতনাহীন বা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় বাসটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল বলে মনে হয়েছে। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনো তদন্ত শেষ করেনি। মিনিভ্যানে থাকা যাত্রীরা কাদের ছিলেন, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী দাতুক ফাহমি ফাদজিল এ ঘটনাকে “একটি গভীর জাতীয় ক্ষতি” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “এই দুঃসময় আমরা নিহতদের পরিবারগুলোর পাশে আছি। সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।”
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে মালয়েশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক দ্য স্টার এক প্রতিবেদনে জানায়, মালয়েশিয়ায় গড়ে প্রতি দুই ঘণ্টায় একজন মানুষের মৃত্যু হয় সড়কে। এ হার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে অন্যতম বেশি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অতিরিক্ত গতি, রাতের বেলা পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ না থাকা এবং দীর্ঘ যাত্রায় ড্রাইভারের ক্লান্তি-এসবই দুর্ঘটনার বড় কারণ।

এই দুর্ঘটনা শুধু মালয়েশিয়ার নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার জন্যও একটি সতর্কবার্তা। শিক্ষা সফর বা দীর্ঘ ভ্রমণে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও দায়িত্বশীল পরিবহন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

 


এ জাতীয় আরো খবর