মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

প্র দী প গু প্ত

  • খোঁজ
  • ২০২৫-০৬-০৫ ১৪:১১:০৪

ভোরবেলা সুখ কুড়োবো বলে
হাত ধরেছিলাম।
এক আবছা অবয়ব ধরে তুমি ডাক দিয়েছিলে -- চলো
আমি আজও খুঁজে চলেছি সে সুখ
কুয়াশাভোরে শিউলি কুড়োবার মতো

তখন আকাশ নীল
নীল পদ্মের মতো ছিলো জীবন।
তোমার গভীর দু'চোখের মতন, মাতনে ভরা।
তোমার পরনে ছিলো ঊষারঙা শাড়ি
আর হাতের চুড়িতে ছিলো ঝিরিপাতার ফাঁকে
ছুটে চলা বাতাসের রিনরিনে সুর
সেই সুরে কি মেশানো ছিলো সুখ - নাকি
সুখের মতোন কিছু, খুশীর অসুখ! 
তোমাকে পাওয়ার আবেশে মেশা কুয়াশার ঘোর আর --
সুখের আবেশে মিশে যাওয়া ঘোরতর অসুখের কালবেলা
ছিলো সে প্রহর।

বাতাস বাউল হলো,
একতারা সুরে আর পায়ের নূপুরে এলো মধ্যাহ্নের বেলা
দু'চোখের চাউনিতে নেশা।
চোখের মণির ভেতর বাসা বেঁধে আছে
বিষধর কুণ্ডলিত সাপ 
বাতাসের মদিরায় এক অলঙ্ঘ্য শনশনে ডাক
শরীর জুড়ে তরঙ্গিণী কাম
অবিরাম -- অবিরাম চাওয়া
লোভ - লালসা আর তাড়নার সঙ্গম। 
চাঁদের টানে ফুলে ওঠে জল। তরল 
আগুন লাভাস্রোতের মত ছোটে
ফোটে প্রেম, আসে বোধ, ভালোবাসা
সাথে সুখ! নাকি গভীরতর অসুখে ছায় পৃথিবী।

সে ভালোবাসা কি একক ছিলো,
না কি বহুতর গমনের সখে 
তুমি তোমার হয়েছো অথবা তোমাদের!
সূর্যের রথচলায় এক তুমি বহু হয়েছো
কখনো স্বেতা, কখনও শ্যামাঙ্গী, কখনওবা উজ্জ্বল শ্যামবর্ণা
অথচ তোমাদের পীনোন্নত সুধাময় বক্ষোজ আশ্রয়
ঠিক যেন মায়েরই মতো, অগ্রজা অথবা অনুজাদের মতোই 
যেন নিশ্চিন্ত স্নেহসুধার ভাণ্ডার।
 
আজ এই পীড়িত প্রদোষে এসেও
খুঁজে ফিরি সুখ।
অথচ কী মূর্খ আমি -- এ পড়ন্ত বেলায় এসেও বুঝিনি
সুখের একমাত্র বাস পৃথিবীর কোনো এক কোণে
প্রদীপের মৃদু আলোয়
নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে বোনে - বুনে চলে সুখ একমনে
কী নীরব সে বুনে চলা , অধীরতায় মুড়ে রাখা মনের
গহনে তোমার।
ঠিক যেন ধ্রুবতারা এক।
সারাটা জীবন ধরে দেখে গেছি শুধু, চিনি নাই তারে
তাই সুখের এ মাধুকরীবৃত্তি মেটে নাই জীবনে আমার।
হাঁটু মুড়ে বসে আছি আজ এক পল্বলের ধারে
একমনা হয়ে কালো জলে খুঁজে ফিরি সেই তারাটিরে
যে তারা একান্ত আপন বৃন্তে ফুটে আছে
সন্ধ্যামালতির মতো, হাসিমাখা মুখে।


এ জাতীয় আরো খবর