কুমিল্লা, ৪ জুন ২০২৫
শহরের শান্ত পাড়া এখন আর আগের মতো নেই-অন্ধকার নামলেই সক্রিয় হয়ে উঠছে সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং। এদের হাতে শুধু মাদক নয়, রয়েছে অস্ত্র, এমনকি সেনাবাহিনীর পোশাকও। এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মঙ্গলবার (৩ জুন) রাতে কুমিল্লায় সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে চার কিশোর গ্যাং সদস্য।
রাত ১০টার দিকে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার রানীর বাজার এলাকায় ২৩ বীর (বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট) সদস্যরা এই অভিযান পরিচালনা করে।
আটক চারজন হলো-
চয়ন চন্দ্র শীল, কোরপাই, কোতোয়ালি থানা
মো. ফরিদ, চম্পকনগর
নাছির উদ্দিন, সুলতানপুর, দেবিদ্বার
তুহিন, সুলতানপুর, দেবিদ্বার
এদের বয়স আনুমানিক ১৮-২০ বছরের মধ্যে হলেও আচরণ ও কার্যক্রম পুরোপুরি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের মতো।
অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়-
৭৮ পিস ইয়াবা
২৫০ গ্রাম গাঁজা
৯টি মোবাইল ফোন, ১টি পাওয়ার ব্যাংক
চাপাতি, কুড়াল, বড় ছুরি, ২টি কাঁচি, ছুরি, কাটিং প্লাস
সিসিটিভি ডিভিআর, সেলাই রেঞ্জ, লোহার বাটুল, ক্রু ড্রাইভার
সেনাবাহিনীর পোশাক-যা সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে
রাত ১২টার দিকে ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের ২৩ বীরের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়-
“সেনাবাহিনীর পোশাক উদ্ধার হওয়া ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এটি জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।”
এই পোশাক কীভাবে আসামিদের হাতে এল, তারা কি কারও ছদ্মবেশে কাজ করছিল, না কি ভবিষ্যতে বড় কোনো অপরাধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল-তা এখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানের আওতায়।
আটকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি ও তদন্ত চলমান রয়েছে।
এমন সময় এই অভিযান পরিচালিত হলো, যখন দেশের নানা প্রান্তে কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল, এলাকায় প্রভাব বিস্তার, মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়া-এসব মিলিয়ে তারা যেন ধীরে ধীরে আন্ডারওয়ার্ল্ডের একটি ডেমো সংস্করণ হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, 'সেনাবাহিনীর পোশাক' ব্যবহার ও অস্ত্র-সংরক্ষণ কেবল মাদকসেবন বা ভয় দেখানো নয়, বরং তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের প্রস্তুতি হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
এই অভিযান কেবল চারজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটকে রাখেনি, সমগ্র সমাজকে এক গভীর প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে-আমাদের শহরের অলিগলি কি নিরাপদ? তরুণরা কোন পথে যাচ্ছে? আর সমাজ কি তাদের থামাতে প্রস্তুত?
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।