বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬

জুলাইয়ের মধ্যেই ‘জুলাই সনদ’ কার্যকর চায় এনসিপি,নির্বাচন ঘোষণায় বিরত থাকার আহ্বান

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৬-০২ ২২:২৫:০৩
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা | ২ জুন ২০২৫
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যেই ‘জুলাই সনদ’ চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরিতভাবে কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি ওই সনদ ঘোষণার আগেই জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না করার অনুরোধও জানিয়েছে দলটি।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সর্বদলীয় সংলাপ শেষে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে এসব মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্ণ হবে। এই সময়ে আমরা চাই, সেই ঐতিহাসিক ঘটনার ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ গৃহীত হোক, যাতে জনগণ একটি নতুন রাজনৈতিক চুক্তি পায়। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, জুলাইয়ের মধ্যে এ সনদ স্বাক্ষরিত ও কার্যকর না হলে নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা অনুচিত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “১৬ বছর ধরে আমরা অপেক্ষা করেছি। এরপর গণআন্দোলনের ১০ মাস পার হয়েছে। এখন মাত্র আরও দুই মাস সময় চাচ্ছি, যাতে রাজনৈতিক দলসমূহ মিলে ভবিষ্যতের রাষ্ট্র কাঠামোর রূপরেখা ঠিক করতে পারে।”
এনসিপির মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া নির্বাচন নিয়ে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করা সম্ভব নয়। দলটির আহ্বায়ক বলেন, “আমরা চাই, আগে জাতির সামনে একটি রূপরেখা আসুক-গণতন্ত্র, শাসনব্যবস্থা, বিচার ও প্রশাসনিক সংস্কারসহ মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে। এরপর আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করব যে, আমরা কখন নির্বাচন চাই।”
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে। আমরা নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন সংক্রান্ত সব আইন সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছি। নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য এটি অপরিহার্য।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান নির্বাচন কমিশন অতীত রাজনৈতিক সরকারের ছায়া বহন করে চলছে। এতে অবাধ নির্বাচনের সম্ভাবনা ক্ষীণ।”
সোমবারের এই সর্বদলীয় বৈঠকে এনসিপি ছাড়াও আরও ২৫টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি অংশ নেন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে এই সংলাপের দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৈঠক শেষে জানা যায়, জুলাই সনদ চূড়ান্তকরণ এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের বিষয়ে বেশ কয়েকটি দল একমত পোষণ করেছে। তবে নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে মতভেদ এখনো রয়ে গেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন সরকার পতনের পর দেশে রাজনৈতিক পরিবেশে আমূল পরিবর্তন আসে। তখন থেকেই নতুন শাসনব্যবস্থা, নাগরিক অধিকার ও ন্যায্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে একটি ঐকমত্যভিত্তিক জাতীয় রূপরেখা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়-যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জুলাই সনদ’। এটি কার্যকর হলে ২০২৫ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে অনেক দলের মধ্যে আস্থা ফিরতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এনসিপির বক্তব্য ইঙ্গিত দেয়, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি স্পষ্ট ‘চুক্তি ভিত্তিক শাসন কাঠামো’ না হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিবেশ নাও তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন সংস্কার ও নির্বাচনকালীন সরকার কাঠামো নিয়েও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তাই আগামী এক-দুই মাস হতে পারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।

 


এ জাতীয় আরো খবর