শনিবার, মে ২, ২০২৬

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ: বিএনপির আটদিনব্যাপী কর্মসূচি চলছে

  • রাজনৈতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৫-৩০ ১৪:২১:৫১
ফাইল ছবি

বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ (৩০ মে)। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে একদল সেনাসদস্যের হাতে নিহত হন তিনি। তার এই নির্মম মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করে, যার প্রভাব এখনো রাজনীতিক আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে শুরু হওয়া নানা আয়োজন চলবে আগামী ২ জুন পর্যন্ত। আজ শুক্রবার ভোর ৬টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা। পাশাপাশি নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করে শহীদ রাষ্ট্রপতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন দলটির সিনিয়র নেতারা। এরপর বিভিন্ন স্থানে দুস্থদের মধ্যে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করা হয়, যাতে অংশ নেন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নেতারা।
শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন একাধারে সেনানায়ক, রাষ্ট্রনায়ক ও রাজনৈতিক সংগঠক। মুক্তিযুদ্ধে তার ঘোষণায় দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে প্রতিরোধের ডাক। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর খালকাটা কর্মসূচি, সবুজ বিপ্লব ও শিল্পায়নের মাধ্যমে তিনি স্বনির্ভর বাংলাদেশের ভিত গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেন। তার অর্থনৈতিক দর্শন ছিল উৎপাদনমুখী এবং জনগণের অংশগ্রহণমূলক।
নারী শিক্ষা ও শিশু বিকাশেও তিনি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও কঠোর শৃঙ্খলার প্রতীক হিসেবে জিয়াউর রহমান আজো অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা।
১৯৮১ সালের ২৯ মে সরকারি সফরে চট্টগ্রামে যান জিয়াউর রহমান। সে রাতেই চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ঘটে ইতিহাসের একটি ভয়াবহ ঘটনা-অজ্ঞাত ও বিপথগামী সেনাসদস্যরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর তার মরদেহ চট্টগ্রামের রাউজানের গভীর জঙ্গলে গোপনে দাফন করে হত্যাকারীরা। তিন দিন পর উদ্ধার করে ঢাকায় আনা হয় তার লাশ।
ঢাকার শেরেবাংলা নগরে আয়োজিত জানাজায় অংশ নিতে লাখো মানুষ ভিড় করে। পরে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। আজও সেই সমাধিস্থল রাজনৈতিক ও জনভিত্তিক চেতনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত।
শহীদ জিয়ার স্মরণে বিএনপি নেতারা বারবার জাতিকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন তার রাষ্ট্রনায়কোচিত দূরদর্শিতা, সততা এবং দেশপ্রেমের কথা। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক ভিডিওবার্তায় বলেন, “দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এখন সময়ের দাবি।”
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো সপ্তাহজুড়ে দোয়া মাহফিল, রক্তদান, আলোচনা সভা এবং গরিব-দুস্থদের মাঝে সহায়তা প্রদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

 


এ জাতীয় আরো খবর