বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে আবারও উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মটুয়া সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১৩ জন বাংলাদেশিকে জোরপূর্বক সীমান্তে ঠেলে পাঠিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শুক্রবার (৩০ মে) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। পরে সীমান্তে টহলরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে থানায় হস্তান্তর করেন।
জানা গেছে, বিএসএফের ঠেলে পাঠানো এই ১৩ জনের মধ্যে রয়েছেন ৬ শিশু, ৩ নারী ও ৪ জন পুরুষ। তাদের সবাই কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা। নানা সময়ে জীবিকার সন্ধানে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে তাদেরকে হাত ও চোখ বেঁধে সীমান্তে এনে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে বিজিবি জানায়, ভোরবেলা মটুয়া সীমান্ত পিলার ২১৯৪-৪-এস এলাকার নিকট একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে সন্দেহভাজন কিছু মানুষের উপস্থিতি শনাক্ত করে বিজিবির ছাগলনাইয়া বিওপি টহল দল। পরে অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই তারা বিভিন্ন সময়ে ভারতের ইটভাটায় কাজ করতে গিয়েছিলেন।
৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা ছয় শিশুসহ ১৩ জনকে সীমান্তে পুশ-ইনের পর আটক করেছি। তাদের সবাইকে ছাগলনাইয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বিএসএফকে মৌখিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদলিপিও পাঠানো হবে।”
তিনি আরও বলেন, এভাবে জোরপূর্বক সীমান্তে লোকজন ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক সীমান্তনীতির লঙ্ঘন। আমরা এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রাখব।
উল্লেখ্য, এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। গত ২২ মে একই জেলার ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া সীমান্ত দিয়ে ৩৯ জন বাংলাদেশিকে একইভাবে পুশ-ইন করে বিএসএফ। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলো সীমান্তে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুশ-ইন কোনো আন্তর্জাতিক সমঝোতার আওতায় পড়ে না। এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সীমান্তে এভাবে মানুষ ঠেলে পাঠানো মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল বলেও মত দিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদের অনেকেই দারিদ্র্যের কারণে সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন বলে জানা গেছে।