সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬

সেনাকল্যাণ সংস্থার ট্রাকে চাঁদাবাজি, এনসিপি নেতা তারিকুল সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার

  • পার্বতীপুর প্রতিনিধি
  • ২০২৫-০৫-৩০ ১৩:৩২:৩৩
ছবি সংগৃহিত

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সেনাবাহিনীর নজরদারিতে ধরা পড়লেন এক রাজনৈতিক নেতা। সেনাকল্যাণ সংস্থার ট্রাক আটকিয়ে চাঁদা দাবি করার সময় হাতে-নাতে ধরা পড়েন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একজন স্থানীয় নেতা। অভিযুক্ত তারিকুল ইসলাম (৪০) নিজেকে পার্বতীপুর উপজেলার ‘মুখ্য সংগঠক’ হিসেবে পরিচয় দিলেও, তার কর্মকাণ্ড নিয়ে এখন তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে স্থানীয় পর্যায়ে।
ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাতে, পার্বতীপুর উপজেলার মহেশপুর গ্রামের রসুলপুর এলাকায়। সন্ধ্যার পর কয়লাখনি এলাকা থেকে টেন্ডারপ্রাপ্ত স্ক্র্যাপ মালামাল পরিবহন করছিল সেনাকল্যাণ সংস্থার দুটি ট্রাক। রাত পৌনে ৮টার দিকে ওই ট্রাক দুটি থামিয়ে চাঁদা দাবি করে একটি দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন তারিকুল ইসলাম।
সূত্রে জানা যায়, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির পুরোনো স্ক্র্যাপ মালামাল সম্প্রতি সেনাকল্যাণ সংস্থা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় লাভ করে। নির্ধারিত নিয়মে মালামাল পরিবহন শুরু হয়। কিন্তু রাস্তায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় একটি চাঁদাবাজ চক্র, যারা নিজেদের প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে অর্থ দাবি করে। খবর যায় স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে। দ্রুত তৎপর হয়ে সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারিকুলকে আটক করেন। তার সহযোগীরা পালিয়ে গেলেও তিনিই পড়ে যান ফাঁদে।
সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের পরপরই র‌্যাব-১৩ এর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে যৌথভাবে তাকে পার্বতীপুর মডেল থানায় হস্তান্তর করে। রাত ১০টার দিকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়।
পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “আটকের পর অভিযুক্ত তারিকুলকে আমরা গ্রহণ করেছি এবং এ ঘটনায় সেনাকল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে একটি মামলা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে, পলাতকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু দলীয় কর্মী বা নেতা রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে স্থানীয় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন, যার ফলে প্রশাসনিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তারিকুল ইসলাম আগে থেকেই কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যদিও এখনই এই মামলার রায়ের দিকে না তাকিয়ে তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে সেনাবাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ এবং র‌্যাবের সমন্বয় প্রশংসা কুড়িয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে। তারা মনে করছেন, এরকম চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা কমিয়ে আনবে।

 


এ জাতীয় আরো খবর