রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬

মাথাপিছু আয় বেড়ে ২৮২০ ডলার: ডলারের দাপটে বাড়ছে টাকায় গড় আয়

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৫-২৮ ০১:২৬:০০
ফাইল ছবি

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮২০ মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৮২ ডলার বেশি। মঙ্গলবার (২৭ মে) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এই তথ্য প্রকাশ করে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত।
গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৩৮ ডলার। ডলারে এই আয়ের অগ্রগতি যেমন ইতিবাচক, তেমনি টাকার অঙ্কে আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২২১ টাকা, যা আগের বছর ছিল ৩ লাখ ৪ হাজার ১০২ টাকা।
বিবিএস জানিয়েছে, মাথাপিছু আয় বাড়লেও এই বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হলো ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি। চলতি বছরে হিসাব করতে গিয়ে তারা গড় বিনিময় হার ধরেছে ১২০ টাকা ২৯ পয়সা, যেখানে গত বছর ছিল ১১১ টাকা ৬ পয়সা। ফলে টাকার ভিত্তিতে আয় বাড়লেও ডলারে হ্রাস-পূর্বক সেই বৃদ্ধির হার অনেকটাই সীমিত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা অর্থনীতির আসল চিত্রকে কিছুটা আড়াল করতে পারে। কারণ প্রকৃত জীবনযাত্রার মান, ক্রয়ক্ষমতা এবং আয় বৈষম্যের চিত্র এ ধরনের গড় পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হয় না।
অনেকেই "মাথাপিছু আয়" বলতে ব্যক্তি বিশেষের গড় আয় ধরে নেন। তবে অর্থনীতিতে এটি মূলত জাতীয় মোট আয়কে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে পাওয়া একটি গড় সংখ্যা। এর মধ্যে রয়েছে প্রবাসী আয়, উৎপাদন খাত, সেবা খাতসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্মিলিত যোগফল।
অর্থাৎ, একজন দরিদ্র কৃষক বা বস্তির বাসিন্দার আয় যেখানে কয়েক হাজার টাকায় সীমাবদ্ধ,সেখানে একটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর মালিকের কোটি টাকার আয়ে ভারসাম্য তৈরি করে মাথাপিছু গড় আয় অনেক উপরের দিকে উঠে যায়।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী গত কয়েক বছর ধরে মাথাপিছু আয় নিম্নরূপ:
২০২১-২২: ২,৭৯৩ ডলার (রেকর্ড সর্বোচ্চ)
২০২২-২৩: ২,৭৪৯ ডলার
২০২৩-২৪: ২,৭৩৮ ডলার
২০২৪-২৫: ২,৮২০ ডলার

এই ধারায় দেখা যাচ্ছে, ২০২১-২২ সালের পর হ্রাসের ধারা ছিল, যা এবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু সেটা বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক উন্নয়ন নির্দেশ করে না। বৈদেশিক রেমিট্যান্স, বড় শিল্পের লভ্যাংশ এবং বিনিয়োগের কিছু সুফল গড় আয় বাড়াতে ভূমিকা রাখলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় তার প্রভাব কতটা পড়েছে, তা বিশ্লেষণের দাবি রাখে।
মাথাপিছু আয় বেড়ে ২৮২০ ডলারে পৌঁছানো নিঃসন্দেহে অর্থনৈতিক সক্ষমতার একটি বহিঃপ্রকাশ। তবে বাস্তব জীবনের খরচ, মূল্যস্ফীতি ও আয়ের বৈষম্য বিবেচনায় এই সংখ্যা একমাত্রিকভাবে সুখবর নয়। দেশের অর্থনীতির সার্বিক শক্তি তখনই প্রতিফলিত হবে, যখন এই গড় আয় বাস্তব জীবনে অধিকাংশ নাগরিকের ক্রয়ক্ষমতা ও কল্যাণে প্রতিফলিত হবে।


এ জাতীয় আরো খবর