সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

বিচারের নামে প্রহসনের অবসান চায় এনসিপি,সংস্কারে জোর আহ্বান

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৫-২৭ ১৬:০৬:৪০
ছবি সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার যেন রাজনৈতিক হাতিয়ার না হয়-এমন সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, “বিচার তখনই গ্রহণযোগ্য হয় যখন তা নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়। অন্যথায় তা রাষ্ট্রীয় প্রতিহিংসার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।”
মঙ্গলবার (২৭ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘গণতান্ত্রিক রূপান্তর: মৌলিক সংস্থার ও নির্বাচন’ শীর্ষক এক আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
আখতার হোসেন এটিএম আধার সাহেবের মুক্তিকে ‘ন্যায়বিচারের বিজয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে কোনো নাগরিক যেন বিচারের প্রহসনের শিকার হয়ে প্রাণ না হারায়, এটা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে বিচারব্যবস্থাকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করার নজির রয়েছে, যা ভবিষ্যতে গণতন্ত্রের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এ দলটির অতীত ইতিহাস নিয়ে আজও বহু প্রশ্ন রয়েছে। জনগণের মধ্যে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না দিলে রাজনৈতিক পুনরুদ্ধার অসম্ভব হয়ে পড়বে।”
আখতার হোসেন বিচারব্যবস্থার দলীয়করণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আজহার উদ্দিনের খালাসের রায়ে আপিল বিভাগ নিজেরাই স্বীকার করেছে যে, বিচার প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ছিল। এটাই প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা কীভাবে বিচারব্যবস্থাকে কলুষিত করে।”
তিনি আরও বলেন, “একটি সরকার যখন বিরুদ্ধ মতকে নিশ্চিহ্ন করতে আদালতের দ্বারস্থ হয়, তখন সেখানে আইনের শাসন থাকে না, থাকে বিচারকে ঘিরে প্রহসনের নাটক।”
বর্তমান সংবিধানের কাঠামোকে একনায়কতন্ত্রের অনুকূল বলে উল্লেখ করে আখতার বলেন, “একজন প্রধানমন্ত্রীকে এত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে, তার ইচ্ছাই আইন হয়ে দাঁড়ায়। এ ব্যবস্থার পরিবর্তন না হলে গণতন্ত্র অকার্যকর রয়ে যাবে।”
তাঁর মতে, শুধু নির্বাচন আয়োজন করলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না, বরং নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসেবে প্রয়োজন মৌলিক সংস্কার।
আখতার হোসেন বলেন, “সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার ছাড়া যে কোনো নির্বাচন একপ্রকার ভোটের নামে কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠার আয়োজন। জনগণ আর চোখ বুজে এমন নির্বাচন মেনে নেবে না।”
তিনি সংবিধানের অধীন নিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, “যখন নিয়োগ হয় ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছানুযায়ী, তখন প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের নয়, বরং সরকারের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত থাকে।”
আখতার হোসেন সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় গিয়ে পূর্ব প্রতিশ্রুতি-বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ’ থেকে সরে আসে, তাহলে জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে।”
তিনি জানান, এনসিপি বিশ্বাস করে, রাজনৈতিক সংস্কারই হলো টেকসই গণতন্ত্রের ভিত্তি।

 


এ জাতীয় আরো খবর