বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২০, ২০২৬

ক্ষমতা নয়,দায়িত্বই মুখ্য-পদত্যাগ করছেন না ড. ইউনূস, জানালেন ঘনিষ্ঠ সহকারী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৫-২৩ ১৩:২৫:৪১
ফাইল ছবি

সংকটকালীন বার্তা: সংলাপ, সহনশীলতা ও ঐক্যের ওপর জোর প্রধান উপদেষ্টার
ঢাকা, ২৩ মে —
টালমাটাল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, চারদিক থেকে আসা চাপ ও আলোচনার ঘূর্ণিপাকের মাঝেও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার পদে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ক্ষমতা নয়, বরং দেশের প্রয়োজনে তিনি দায়িত্বে রয়েছেন।
এই বার্তাটি গণমাধ্যমে আসে শুক্রবার দুপুরে, যখন প্রধান উপদেষ্টার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসে ড. ইউনূসের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
“ক্ষমতা নয়, প্রয়োজনই মুখ্য”-ঘনিষ্ঠ সহকারীর স্পষ্ট বার্তা
ফয়েজ আহমদ বলেন, “অধ্যাপক ইউনূস পদত্যাগ করছেন না। তিনি মনে করেন, তার নিজের ক্ষমতার প্রয়োজন নেই, কিন্তু এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য তার মতো একজন নিরপেক্ষ ও আস্থাশীল ব্যক্তির প্রয়োজন রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূস এ মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ, আস্থা অর্জন এবং শান্তিপূর্ণ একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বিশেষ সহকারী তৈয়্যব সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত ও গভীরতর সংলাপে বসতে,বিরোধী মতকে আদর-আপ্যায়নে আমলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “এখন বিচ্ছিন্নতা নয়, দরকার ঐক্যের ভাষা ও সমঝোতার চর্চা।”
তার মতে, এই মুহূর্তে একমাত্র উত্তরণ সম্ভব সহনশীলতা, শুনতে শেখা এবং আন্তরিক আলোচনার মাধ্যমে।
গত কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন চলছিল-অবস্থা কঠিন হওয়ায় হয়তো ড. ইউনূস দায়িত্ব ছাড়তে পারেন।
বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর অনাস্থা, রাস্তায় আন্দোলন, সেনা নেতৃত্বের সঙ্গে টানাপোড়েন এবং নির্বাচনী সময়সীমা ঘিরে দোটানার পরিপ্রেক্ষিতে এসব আলোচনার জন্ম হয়।
তবে ফয়েজ তৈয়্যবের প্রকাশিত এই বক্তব্য অনেকটাই বিভ্রান্তি কাটিয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
একজন রাজনৈতিক ভাষ্যকার বলেন, “এটি একটি কৌশলগত বার্তা। ইউনূস শুধু পদে আছেন না-তিনি সংকট নিরসনের দায়িত্বও নিচ্ছেন, তা স্পষ্ট করলেন।”
ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠমহল বলছে, এই অবস্থান তার দীর্ঘদিনের অবস্থানেরই প্রতিফলন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার শুরু থেকেই বলে আসছেন, “আমার কোনো রাজনীতি নেই। আমার কাজ হলো সহনশীলতা, ঐক্য ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করা।”
তাদের মতে, তিনি পদত্যাগ করলে তা হবে রাজনৈতিক ব্যর্থতার প্রতীক-যা নোবেলজয়ী এই ব্যক্তিত্বকে শুধু প্রশ্নবিদ্ধই নয়, দেশের আপামর মানুষকেও হতাশ করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুহূর্তে ড. ইউনূসের পদত্যাগ কোনো পক্ষের জন্যই সুবিধাজনক নয়।
সরকারের জন্য তা ব্যর্থতা স্বীকারের নামান্তর
বিরোধীদের জন্য এটি হবে আন্দোলনের নতুন অস্ত্র
দেশের জন্য হবে অনিশ্চয়তার আরো এক ধাক্কা

এই বাস্তবতা হয়তো ড. ইউনূসকে 'অবস্থান স্পষ্ট করার' প্রয়োজনীয়তায় বাধ্য করেছে।
এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে অন্তত বোঝা যাচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে থাকা ইউনূস তাৎক্ষণিকভাবে সরে যাচ্ছেন না। বরং তিনি চাইছেন—
✅ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য
✅ সহনশীল পরিবেশে নির্বাচন
✅ শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের উপযুক্ত প্রক্রিয়া

তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে-রাজনৈতিক দলগুলো কতটা গ্রহণ করবে এই আহ্বান?
সংলাপে কি নতুন দিগন্ত খুলবে, নাকি জটিলতা আরও ঘনীভূত হবে-তা সময়ই বলে দেবে।

সংক্ষেপে মূল তথ্য:
???? ড. ইউনূস পদত্যাগ করছেন না
???? ফেসবুক পোস্টে তার ঘনিষ্ঠ সহকারীর ব্যাখ্যা
???? ‘ক্ষমতা নয়, দেশের প্রয়োজনে আছি’ বার্তা
???? রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিবিড় সংলাপের আহ্বান
???? সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর
???? সাম্প্রতিক গুঞ্জনের জবাবে অবস্থান স্পষ্ট


এ জাতীয় আরো খবর