বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২০, ২০২৬

এনবিআর বিভক্তি আপাতত স্থগিত: আন্দোলনের পর সরে এলো অর্থ মন্ত্রণালয়

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৫-২৩ ০০:২৫:৩২

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিভক্তির উদ্দেশ্যে সম্প্রতি জারি করা ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ’ আপাতত কার্যকর করা হচ্ছে না। এনবিআর কর্মকর্তাদের লাগাতার অসন্তোষ ও প্রতিবাদের মুখে অর্থ মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ মে) অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংশোধিত অধ্যাদেশ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত রাজস্ব বোর্ডের কার্যক্রম বর্তমান কাঠামো অনুযায়ীই চলবে। অর্থাৎ, কাস্টমস ও আয়কর ক্যাডারের কর্মকর্তারা পূর্বের নিয়মেই দায়িত্ব পালন করবেন।
গত ১২ মে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি নতুন অধ্যাদেশ জারি করে, যেখানে এনবিআরকে দুই ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব রাখা হয়। এতে কাস্টমস এবং আয়কর ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রবল অসন্তোষ দেখা দেয়, যা রূপ নেয় সক্রিয় আন্দোলনে। এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে কর্মকর্তারা কর্মবিরতি ও কর্মসূচির ডাক দেন।
এর প্রেক্ষিতে ২০ মে অনুষ্ঠিত হয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, যেখানে আন্দোলনরত কর্মকর্তাদের প্রতিনিধি দল, সরকারের চার উপদেষ্টা এবং রাজস্ব নীতি সংস্কার সংক্রান্ত পরামর্শক কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। বৈঠকে এনবিআরের ১৩ জন প্রতিনিধিরা তাদের উদ্বেগ ও আপত্তি তুলে ধরেন এবং উপদেষ্টারা আশ্বাস দেন যে সংশোধন না করে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে না।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, “আলোচনার মাধ্যমে যে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গেছে তা গ্রহণযোগ্য।” তাই পুনরায় অসহযোগ কর্মসূচির ঘোষণা যৌক্তিক নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়:অধ্যাদেশটি সংশোধনের কাজ সময়সাপেক্ষ, তাই এনবিআরের সব কার্যক্রম বিদ্যমান কাঠামো অনুযায়ী চলবে।
বিসিএস (কর) এবং বিসিএস (শুল্ক ও আবগারী) ক্যাডারের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখেই প্রশাসনিক কাঠামোর খসড়া চূড়ান্ত হবে এবং সংশোধিত অধ্যাদেশে তা প্রতিফলিত হবে।
কোনো কর্মকর্তা বা ক্যাডারের পদ বা পদবি কমানোর পরিকল্পনা নেই, বরং সংস্কারের ফলে নতুন পদ সৃষ্টি ও পদোন্নতির সুযোগ বাড়বে।
রাজস্ব প্রশাসনে বহুদিন ধরেই সংস্কারের কথা উঠছিল। কিন্তু বাস্তবায়নের ধরন এবং অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপহীনতা এবার পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে।
এই সিদ্ধান্ত আপাতত এনবিআর কর্মকর্তাদের মধ্যে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ দিলেও এটি স্থায়ী সমাধান নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
একটি অস্থায়ী সরকারের আমলে প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে এমন নাটকীয় পরিস্থিতি অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এনবিআরের মতো সংবেদনশীল রাজস্ব সংস্থার অভ্যন্তরীণ বিরোধ সরকারকে নীতি পরিবর্তনে বাধ্য করেছে, যা নতুন সরকারের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে জোর আলোচনা সৃষ্টি করছে।

 


এ জাতীয় আরো খবর