সরকারি উপদেষ্টা প্যানেলের তিন সদস্যের বিরুদ্ধে ‘বিএনপিপন্থি’ অবস্থানের অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি এই উপদেষ্টাদের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে। এ দাবিতে বুধবার (২১ মে) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী। তিনি অভিযোগ করেন,
“আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ মূলত বিএনপির হয়ে কাজ করছেন। তাঁরা সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করছেন।”
নাসির উদ্দীন আরও বলেন, “এই তিনজন উপদেষ্টাকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। জনগণের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করলে রাস্তায় জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত। জুলাই ঘোষণাপত্র দিতে বিলম্ব করা হলে আইন উপদেষ্টাকে দেশে থাকতে দেওয়া হবে না।”
সমাবেশে নেতারা আরও বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন কার্যত একটি পক্ষপাতদুষ্ট কাঠামোতে পরিণত হয়েছে এবং ইসি বর্তমানে ‘বিএনপির কার্যালয়ের মতো আচরণ করছে’। বক্তারা জানান, “ইসি পুনর্গঠন ছাড়া এনসিপি দেশের কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে দেবে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রথমে করতে হবে, আর তা হতে হবে একটি নিরপেক্ষ ও পুনর্গঠিত কমিশনের অধীনে।”
নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী ও অন্যান্য বক্তারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়কেই কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।
“আওয়ামী লীগ জনরায়ের অপব্যবহার করেছে, ফল এখন পাচ্ছে। আর বিএনপি ১৬ বছর ধরে কী করেছে? শুধু কথার ফুলঝুরি? একটি বালুর ট্রাকও সরাতে পারেনি। এখন বড় বড় কথা বলছে।”
তারা বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমান ও গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নাম উল্লেখ না করে বিদ্রূপ করে বলেন,
“যারা বছরের পর বছর মাঠে ছিল না, তারাই এখন দাবি করে জনগণ তাদের সঙ্গে আছে! রাস্তায় নামলেই বোঝা যাবে কারা আসল গণমানুষের প্রতিনিধি।”
সমাবেশ ঘিরে নির্বাচন কমিশন ভবন ও আশপাশের এলাকায় নেয়া হয় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র্যাব, কোস্ট গার্ড ও আনসার সদস্যরা অবস্থান নেয় বিভিন্ন স্থানে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন,
“সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সরকার গঠনের পর উপদেষ্টা প্যানেলে যোগ দেওয়া আইন ও অর্থনীতিবিদদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো যেমন তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তেমনি বিভিন্ন নবীন রাজনৈতিক শক্তিও সন্দেহ প্রকাশ করছে উপদেষ্টাদের ভূমিকা নিয়ে।
এনসিপির এই অবস্থান একটি নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ইঙ্গিত দিচ্ছে-যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো শুধু সরকার নয়, সরকারঘনিষ্ঠ নীতিনির্ধারকদেরও সরাসরি টার্গেট করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি সরকারের উপদেষ্টা কাঠামোর ওপর জনআস্থার সংকটের ইঙ্গিত।