রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

অবশেষে স্বপ্নে ফেরত: ৪৩তম বিসিএসে বাদ পড়া ১৬২ জন প্রার্থীর গেজেট প্রকাশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৫-২০ ১৯:৪৪:৪০
ফাইল ছবি

চলতি বছরের শুরু থেকেই তারা ছিলেন অনিশ্চয়তার অন্ধকারে। মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন, এমনকি অনশন-সবই করেছেন শুধুমাত্র একটি কাগজে নাম তোলার আশায়। অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো। ৪৩তম বিসিএস থেকে বাদ পড়া ১৬২ জন প্রার্থী এখন গেজেটভুক্ত, অর্থাৎ তারা সরকারি চাকরিতে যোগদানের অধিকার পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ মে) বিকেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে দুপুরে চূড়ান্ত অনুমোদনের মধ্য দিয়ে একরাশ উদ্বেগের অবসান ঘটে।
৪৩তম বিসিএসের গেজেট প্রকাশের পর বিস্ময়করভাবে ২২৭ জন প্রার্থীর নাম বাদ পড়ে যায়, যদিও তারা মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পিএসসির সুপারিশ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সরকারি ভাষায় বলা হয়, নিরাপত্তা যাচাই ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার কিছু জটিলতায় এদের গেজেট করা হয়নি।
এই অন্যায্যতার বিরুদ্ধে জানুয়ারি থেকে আন্দোলনে নামেন প্রার্থীরা। ধীরে ধীরে তা রূপ নেয় এক মানবিক আর হৃদয়বিদারক লড়াইয়ে। সর্বশেষ গত ২৯ এপ্রিল থেকে শুরু হয় আমরণ অনশন, যেখানে কয়েকজন বাদ পড়া প্রার্থী জীবন বাজি রেখে গেজেট প্রকাশের দাবিতে পথে বসেন।
১৬২ জনের গেজেট প্রকাশের খবর শোনার পর আনন্দে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে। আমরণ অনশনে অংশ নেওয়া একজন প্রার্থী বলেন, “আমরা অনেক কষ্ট করেছি। ঘর থেকে বিতাড়িত হয়েছি, সমাজে ছোট হয়েছি। আজ মনে হচ্ছে নতুন করে বেঁচে উঠেছি।”
আরেক আন্দোলনকারী বলেন, “আমাদের এই জয় শুধুই চাকরির নয়। এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জয়।”
৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর। প্রায় পাঁচ বছরব্যাপী এই নিয়োগপ্রক্রিয়া প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক ধাপ পেরিয়ে ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর শেষ হয় পিএসসির চূড়ান্ত সুপারিশের মাধ্যমে।
সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ২,১৬৩ জন। কিন্তু ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার নানা জটিলতায় প্রথম গেজেট হয় ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর, যেখানে ২,০৬৪ জনের নাম প্রকাশিত হয়। পরে আরও কড়াকড়িতে ২৬৭ জনকে বাদ দিয়ে ১,৮৯৬ জনকে দ্বিতীয় দফায় গেজেটভুক্ত করা হয় ৩০ ডিসেম্বরের প্রজ্ঞাপনে।
এই বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্য থেকে এবার ১৬২ জন ‘ফাইনালি’ সরকারি চাকরিতে জায়গা পেলেন। এখনো গেজেটের বাইরে রয়ে গেলেন আরও ৬৫ জন, যাদের ভাগ্য নির্ভর করছে পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত ও যাচাই-প্রক্রিয়ার ওপর।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যারা এবার গেজেটভুক্ত হয়েছেন, তাদের ভেরিফিকেশন ও অন্যান্য দাপ্তরিক বিষয় ইতিমধ্যেই পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই ক্যাডার অনুসারে যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে সূত্র জানায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া একদিকে যেমন প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন তোলে, তেমনি রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থায় মানবিকতার প্রয়োজনীয়তা নতুনভাবে মনে করিয়ে দেয়।
যদিও ১৬২ জনের জন্য আজকের দিনটি বিজয়ের, তবে বাকি ৬৫ জনের জন্য এটি এখনো লড়াইয়ের মাঝপথ। আন্দোলনকারীরা বলছেন,
“আমরা কারো ক্ষতি চাই না। চাই শুধু ন্যায্য প্রাপ্তি। বাকি যারা এখনো গেজেটের বাইরে আছেন, তাদের নিয়েও সরকার যেন দ্রুত ও মানবিক সিদ্ধান্ত নেয়।”

✅ সংক্ষেপে:
১৬২ জন বাদপড়া প্রার্থী গেজেটভুক্ত
দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রক্রিয়া শেষে প্রজ্ঞাপন
অনশন ও আন্দোলনের চাপে সরকারি সিদ্ধান্ত
এখনো গেজেটবহির্ভূত রয়েছেন ৬৫ জন


এ জাতীয় আরো খবর