বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা তুঙ্গে: ‘ভারতের অহংকার চূর্ণ করেছে পাকিস্তানি বাহিনী’,দাবি শাহবাজ শরিফের

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৫-১৬ ১৪:৩৭:৪৭
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা | ১৬ মে ২০২৫
ভারতের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দাবি করেছেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ভারতের ‘মিথ্যা অহংকার’ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে এবং এই অঞ্চলের প্রতিটি রাষ্ট্রকেই সমান মর্যাদা পাওয়ার বার্তা দিয়েছে বিশ্বকে।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) পাকিস্তান বিমান বাহিনীর (পিএএফ) কামরার ঘাঁটি পরিদর্শনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। দেশটির শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ডন এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
পিএএফ ঘাঁটিতে বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণে শাহবাজ বলেন, “আপনারা শুধু বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে দেননি, বরং অঞ্চল ও বিশ্বের সমীকরণ বদলে দিয়েছেন। এটি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার নিদর্শন।”
তিনি কাশ্মীরসহ সব বিরোধপূর্ণ ইস্যু আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানান। তবে একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, পাকিস্তান কোনো চাপের কাছে মাথানত করবে না।
এই ভাষণের সময় পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী গত ৬-৭ মে রাতের সামরিক উত্তেজনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের হাতে ভূপাতিত হয়েছে ভারতের ছয়টি যুদ্ধবিমান, যার মধ্যে রয়েছে:

তিনটি রাফায়েল,
একটি সুখোই এসইউ-৩০,
একটি মিগ-২৯,
একটি মিরাজ-২০০০।
পাশাপাশি পাকিস্তানের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ৮৫টি ভারতীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে একটি ইসরায়েলি নির্মিত হেরন ইউএভি এবং বাকি ৮৪টি কোয়াডকপ্টার ও নজরদারি ড্রোন রয়েছে।
এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এবং এয়ার ভাইস মার্শাল আওরঙ্গজেব আহমেদ জানান, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে পাকিস্তান ৬-০ ব্যবধানে ভারতের ওপর কৌশলগত জয় অর্জন করেছে।
এভিএম আওরঙ্গজেব বলেন, “আমরা শান্তি ও যুদ্ধ উভয় পরিস্থিতিতে পূর্ণ প্রস্তুত ছিলাম। প্রতিটি ভারতীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ট্র্যাক করা হয়েছে। আমরা জ্যামিং ও ডেটা ব্যাহত করার মাধ্যমে সফলভাবে শত্রু প্রযুক্তি ধ্বংস করেছি।”
সর্বশেষ উত্তেজনার সূচনা হয় গত ৭ মে রাতে, যখন ভারতের বিমান বাহিনী পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে বিমান হামলা চালায়। পাকিস্তানের দাবি, এতে ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। পাল্টা জবাবে, ইসলামাবাদ ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে এবং একাধিক ড্রোন ধ্বংস করে।
চারদিনের সংঘাতে পাকিস্তানি সূত্র অনুযায়ী, ভারতের কমপক্ষে ১১ সেনা এবং ৪০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ একদিকে শান্তির আহ্বান জানালেও, অন্যদিকে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরক্ষার অধিকার’ প্রয়োগের দৃঢ় অবস্থান জানিয়ে দেন। এতে স্পষ্ট যে, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার রেখা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যকার এমন সামরিক উত্তেজনা দক্ষিণ এশিয়াকে নতুন করে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিশেষ করে যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গাজা এবং ইউক্রেন ইস্যুতে ব্যস্ত, তখন উপমহাদেশে এ ধরনের সংঘর্ষ বিশ্বের নজর কাড়ছে।


এ জাতীয় আরো খবর