মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

ভারতের 'জিরো ট্যারিফ' নিয়ে ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান: চূড়ান্ত নয় এখনো কিছুই, জানালো দিল্লি

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৫-১৬ ১৩:৫৭:৩৭
ফাইল ছবি

ভারতের সঙ্গে একটি শুল্কমুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক জলঘোলা। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, দিল্লি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর সমস্ত শুল্ক প্রত্যাহার করতে রাজি হয়েছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে তা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করা হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এক বিবৃতিতে বলেন, “আলোচনা চলমান, এবং কিছুই চূড়ান্ত নয় যতক্ষণ না সবকিছু চূড়ান্ত হয়।” তিনি আরও বলেন, “বাণিজ্য চুক্তি হতে হবে উভয়পক্ষের জন্য উপকারী এবং ভারসাম্যপূর্ণ।”
কাতারের দোহায় এক ব্যবসায়িক সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, “ভারত আমাদের এমন একটি চুক্তি দিয়েছে যেখানে তারা আমাদের পণ্যের ওপর কোনো শুল্কই আরোপ করবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমি অ্যাপল সিইও টিম কুককে বলেছি, আমি চাই না তোমরা ভারতে কিছু উৎপাদন করো, কারণ ওরা বিশ্বের অন্যতম উচ্চ শুল্ক আরোপকারী দেশ।”
ট্রাম্পের মন্তব্যকে অতিরঞ্জিত ও একতরফা ব্যাখ্যা হিসেবে দেখছে দিল্লি। বাণিজ্য বিশ্লেষক অজয় শ্রীবাস্তব বলছেন, “ভারত শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের নীতি নিলেও সেটা ‘জিরো ফর জিরো’ ভিত্তিতে হতে হবে-অর্থাৎ, দুই পক্ষই সমান শুল্ক ছাড় দেবে।”
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। দিল্লি ইতিমধ্যে বারবন হুইস্কি, মোটরসাইকেলসহ কিছু মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়েছে। তবুও ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি এখনও মার্কিন প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ।
গত এপ্রিলেই ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ২৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন, যার ৯০ দিনের সাময়িক বিরতি শেষ হবে ৯ জুলাই। তার আগেই দুই দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চাইছে।
এই সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে পণ্যের আমদানি শুল্ক কমাতে এক চুক্তি হয়েছে।

চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ১৪৫% থেকে ৩০%
মার্কিন পণ্যের ওপর চীনের শুল্ক ১২৫% থেকে ১০%

এ পরিস্থিতিতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নিয়ে আলোচনাও নতুন মাত্রা পেয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যে অ্যাপলের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। তিনি অভিযোগ করেন, “অ্যাপল ভারতের মতো উচ্চ শুল্ক আরোপকারী দেশে উৎপাদন করতে চাইছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে।”
উল্লেখ্য, অ্যাপল সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে যে তারা আইফোন উৎপাদনের বড় একটি অংশ চীন থেকে ভারতে স্থানান্তর করছে এবং আইপ্যাড-অ্যাপল ওয়াচের মতো পণ্য ভিয়েতনামে উৎপাদন করবে।
ট্রাম্পের অভিযোগ ও চাপের মধ্যেও ভারত সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছে:

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
ইউরোপীয় ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের (ইএফটিএ) সঙ্গে $১০০ বিলিয়ন চুক্তি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করতে চলতি বছরের মধ্যেই আলোচনা শেষ করার পরিকল্পনা
ট্রাম্পের কথার পেছনে রাজনৈতিক কৌশল থাকলেও ভারতের অবস্থান এখনো কৌশলগতভাবে স্থির ও সংযত। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতির পক্ষে একতরফা শুল্ক ছাড় দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।
চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে এমন উচ্চমার্গের ঘোষণা কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেই নয়, বাজারেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।


এ জাতীয় আরো খবর