শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬

ফরাসি কিংবদন্তি অভিনেতা দেপারদিউ যৌন হেনস্তায় দোষী, ১৮ মাসের কারাদণ্ডে কালিমালিপ্ত ক্যারিয়ার

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৫-১৪ ১২:৫৯:২০
ফাইল ছবি

এক সময় যিনি ছিলেন ফরাসি সিনেমার গর্ব,আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লাল গালিচার নিয়মিত মুখ-সেই জেরার্ড দেপারদিউ আজ দাঁড়িয়ে আছেন অপরাধীর কাঠগড়ায়। ৭৬ বছর বয়সে এসে বহুল আলোচিত যৌন হেনস্তার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। প্যারিসের একটি আদালত মঙ্গলবার তাকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড এবং দুই অভিযোগকারিণীকে এক হাজার ইউরো করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

সেট থেকে আদালতের এজলাসে: ঘটনার পেছনের গল্প
ঘটনাটি ২০২১ সালের। শুটিং চলছিল "Les Volets Verts" নামের একটি ছবির। সেটে কর্মরত ছিলেন দুই নারী-একজন সহকারী পরিচালক, অন্যজন সেট ডিজাইনার। তাদের অভিযোগ, দেপারদিউ একাধিকবার তাদের অনুমতি ছাড়াই গোপনাঙ্গে হাত দিয়েছেন, ব্যবহার করেছেন অশালীন ভাষা ও আচরণ।
প্রথমে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন দেপারদিউ। তবে মামলার শুনানিতে উঠে আসে বেশ কিছু শক্ত প্রমাণ-ঘটনার সময়কার চ্যাট, সহকর্মীদের সাক্ষ্য এবং অভিযুক্তের আগের বিতর্কিত আচরণের নজির।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: সন্দেহের অবকাশ নেই
বিচারক রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, "যেভাবে ও যে ধরনের স্পর্শের অভিযোগ উঠেছে, তাতে যৌন হেনস্তা ব্যতিরেকে অন্য কোনো ব্যাখ্যা সম্ভব নয়।" আদালত আরও বলেন, “এই অপরাধ শুধু ব্যক্তিগত নয়, পেশাগত পরিবেশকে কলুষিত করার সামিল।”

আদালতে অনুপস্থিত দেপারদিউ, আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা
রায়ের দিন দেপারদিউ আদালতে হাজির ছিলেন না। তিনি তখন অন্য একটি সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত। তার আইনজীবী রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, “এটি পক্ষপাতদুষ্ট রায়। আমরা পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল করব।”
তবে অভিযোগকারিণীদের আইনজীবী ক্যারিন ডিবোল্ট রায়ের পর বলেন, “আজকের এই রায় শুধু দুই নারী নয়, শুটিং সেটের প্রতিটি নারীর ন্যায়বিচার। যারা ভয়ে মুখ খুলতে পারেনি, তাদের জন্যও এটি এক শক্ত বার্তা।”

পেছনে আরও অভিযোগের ছায়া
দেপারদিউর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এই প্রথম নয়। আগেও বহু নারী তার বিরুদ্ধে নানা সময়ে যৌন হয়রানির অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও ফোরামে। কিন্তু এটিই প্রথম মামলা, যেখানে আদালতের পর্যায়ে এসে অভিনেতার বিরুদ্ধে ফৌজদারি রায় হলো।

সিনেমা হল থেকে ন্যায়বিচারের কাঠগড়ায়: পতনের প্রতীক?
এক সময়ের গ্লোবাল ফিল্ম আইকন দেপারদিউর এই সাজা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে-সেলিব্রিটি কালচারে দায়মুক্তির সংস্কৃতি কতটা গভীরে প্রোথিত?
জাঁ লুক গোদার থেকে ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো, বার্নাদো বার্তোলুচ্চির মতো কিংবদন্তি পরিচালকদের প্রিয় এই অভিনেতা হয়তো আর ফিরতে পারবেন না নিজের পুরনো অবস্থানে। যৌন হেনস্তার মতো গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাও মুখ থুবড়ে পড়তে চলেছে।

জেরার্ড দেপারদিউর বিচার শেষ হলেও প্রশ্ন থেকে যায়-স্ক্রিপ্টের পেছনে লুকিয়ে থাকা কত সত্য এখনো অন্ধকারেই রয়ে গেছে? যারা ক্ষমতার বলে নারীদের মৌন করে রাখে, তাদের জন্য এই রায় কি সত্যিই পরিবর্তনের সূচনা?


এ জাতীয় আরো খবর