সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

ফ্যাসিবাদীদের বিচার চাই’:অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে বিএনপির তীব্র বার্তা

  • বিশেষ প্রতিনিধি
  • ২০২৫-০৫-১১ ১৮:৪১:১৬

দীর্ঘ দিনের অপেক্ষার পরে অবশেষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে বিচারিক উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে দলটি একইসাথে স্পষ্ট করে দিয়েছে-এ সিদ্ধান্ত আরও আগেই নেওয়া উচিত ছিল।
রোববার (১১ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,
“প্রাসঙ্গিক আইন সংশোধন করে বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুম, খুন, নিপীড়ন ও জনগণের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন অপশাসন চালনাকারী, ফ্যাসিবাদী দলের বিচার করার সিদ্ধান্তকে আমরা সঠিক মনে করি।”

সিদ্ধান্তটি দেরিতে হলেও সঠিক: বিএনপির মূল্যায়ন
মির্জা ফখরুল বলেন,“আমরা আনন্দিত যে, বিলম্বে হলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই অপশক্তির বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে, যারা গণতন্ত্রকে অপহরণ করে এক ভয়াবহ দুঃশাসনের ইতিহাস তৈরি করেছিল।”
তাঁর ভাষ্যমতে, এই সিদ্ধান্ত যদি আগেই নেওয়া হতো, তবে সরকারকে এখন ‘চাপের মুখে বিব্রতকর অবস্থায়’ পড়তে হতো না।

বিএনপির পূর্বাপর অবস্থান: এক ধারাবাহিক রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ
বিবৃতিতে বিএনপি উল্লেখ করে, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫: প্রধান উপদেষ্টার কাছে পত্র দিয়ে আওয়ামী লীগকে মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান।
১৬ এপ্রিল ২০২৫: ‘ফ্যাসিবাদী দল ও তাদের মদদপুষ্টদের বিচার’ দাবিতে দ্বিতীয় দফা প্রস্তাবনা।
ফখরুল বলেন,“আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি, প্রশাসনিক আদেশে নয়-আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার চাই। আওয়ামী লীগের মতো পতিত ফ্যাসিবাদী দলকে নিষিদ্ধ করা উচিত এবং সম্ভব।”

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার রোডম্যাপ: অনুপস্থিতির হতাশা
যদিও বিএনপি বিচার প্রক্রিয়ার পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে, তবুও তারা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্পষ্ট রোডম্যাপ না থাকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। মির্জা ফখরুল বলেন, “১৬ বছর ধরে জনগণ ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে যে দুঃসহ সংগ্রাম করেছে-তার পূর্ণ প্রতিফলন এখনো আসেনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এই ক্ষোভ ও প্রত্যাশার বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করতে হবে।”

ফ্যাসিবাদের বিচারে আইন সংশোধনের প্রেক্ষাপট: একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি হতে যাচ্ছে। কারণ এর মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারিক পদক্ষেপ গ্রহণ শুধু বিরল নয়, বরং তা দেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।

‘জামায়াতকে নিষিদ্ধে আমরা ছিলাম বিপক্ষে’: নীতির ধারাবাহিকতা তুলে ধরল বিএনপি
বিএনপি মনে করিয়ে দিয়েছে যে, তারা অতীতেও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দল নিষিদ্ধ করার বিরোধিতা করেছিল। মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা জামায়াত নিষিদ্ধের সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলাম। কারণ রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করতে হলে তা হতে হবে আইন ও সংবিধানসম্মতভাবে।”
এই বিবৃতির মাধ্যমে বিএনপি তাদের নীতিগত অবস্থান ‘আইনি বিচার, রাজনৈতিক প্রতিশোধ নয়’—এই বার্তা দিতে চেয়েছে।

একটি রাজনৈতিক যুগান্তরের সম্ভাবনা?
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই পদক্ষেপ হয়তো বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রশংসিত হবে, কিন্তু তার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বাংলাদেশের রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যাবে তা এখনো অনিশ্চিত।
তবে বিএনপির বিবৃতি এক নতুন বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করছে-যেখানে রাজনৈতিক দায়মুক্তি নয়, বরং আইন ও ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে ক্ষমতাবানদেরও।


এ জাতীয় আরো খবর