নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জামফারা রাজ্যে একটি সোনার খনিতে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় অন্তত ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে নাইজেরিয়ান মাইনার্স ইউনিয়ন।
ইউনিয়নের প্রতিনিধি ইয়াহায়া আদামু গোবিরাওয়া জানান, হামলাকারীরা প্রথমে গত মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) একটি আক্রমণের চেষ্টা করেছিল, তবে তা প্রতিহত হয়। দুই দিন পর বৃহত্তর সংখ্যক এবং ভারী অস্ত্রসজ্জিত সন্ত্রাসীরা আবার হামলা চালায়। এবার তাদের উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট-সোনার খনিজ সম্পদ দখল।
ক্রমবর্ধমান সহিংসতা
নাইজেরিয়ার জামফারা অঞ্চলে খনিজ সম্পদের জন্য এ ধরনের সহিংসতা নতুন কিছু নয়। খনিজ শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনা, গ্রানাইট, জিপসাম, কাওলিন, লেটারাইট, লাইমস্টোন, ফসফেট ও কোয়ার্টজ বালি সমৃদ্ধ এই অঞ্চলে অবৈধ খনি খনন এখন একটি লাভজনক অপরাধজগত তৈরি করেছে।
‘দ্য কনভারসেশন’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি এবং দুর্নীতিগ্রস্ত অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারা অবৈধ খনি খননের সাথে সরাসরি যুক্ত। নাইজেরিয়ার খনিজ মন্ত্রী ডেলে আলাকে মন্তব্য করেছেন, "অবৈধ খনন কার্যক্রমে সন্ত্রাসীদের অর্থায়ন করা হচ্ছে, যার ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।"
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, তবুও শঙ্কা কাটেনি
ঘটনার পরপরই জামফারায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের যোগসাজশ ছাড়া এত বড় আক্রমণ সম্ভব নয়।
নাইজেরিয়ার উত্তর ইডোর সিনেটর অ্যাডামস ওশিওমহোলে অভিযোগ করেছেন, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের একটি অংশ অবৈধ খনি খননের সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছে, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যদি অবৈধ খনন বন্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে এবং সেখানকার খনিজ সম্পদ আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের দখলে চলে যেতে পারে।