সুরঞ্জনা !
মাত্র এক শতাব্দী আগেও
তোমাকে দেখেছিলাম রূপসার বালুচরে,
মধ্যমা আর তর্জনীর অপরূপ মুদ্রায়
ভাসিয়ে দিয়েছিলে দুবাহু আকাশ গঙ্গায়।
বৃষ্টির ধারাপাতে তোমার বিমূর্ত সিলুয়েট
এঁকেছিল কত প্রেমিক !
মিহি গুঁড়োর মতো ছড়িয়ে গেছিলো
অসমাপ্ত পান্ডুলিপিতে।
সুরঞ্জনা !
কতো বিপ্লব, কতো প্রেম, কতো প্রতিশ্রুত জীবনের কাব্য
বুকে নিয়ে, লোকান্তরী হলে !
আর কেউ কখনো তোমায় দেখেনি !
সেই থেকে প্রেম অন্তরীণ।
বিপ্লব জারজ ভ্রূণের মতোই
মাতৃ জঠরে দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
অথচ আজও আয়োজনের কোন ত্রুটি নেই,
ছাদ বাগান, কৃত্রিম দিঘি, ফুল প্রজাপতি
ফিরতে তো তোমায় বলেছিল !
তবু এই মিথ্যে কথার রঙিন শহর থেকে
তুমি হারিয়ে গেলে স্বেচ্ছা নির্বাসনে !
বন্ধ্যা রজস্বলা নারীর মতোই
যাবতীয় অগৌরব নিয়ে এ শহর ধুঁকছে।
রক্তস্রাব নিতান্তই স্বাভাবিক ঘটনা,
কর্পোরেশনের সাফাইকর্মী !
ধুয়ে মুছে সাফ করে দেবে সব,
ট্রামের মৃদু অথচ তীক্ষ্ণ ঘন্টির মতো
মিলিয়ে গেছে তোমার রিনরিনে সাবধানবাণী।
শহর লক্ষণ রেখা অতিক্রম করেছে।
শহরের ব্যস্ততম পাঁচমাথার মোড়ে,
জড়ো হয়েছে তোমার অগণিত সন্তান এবং প্রেমিক,
প্রতিটি গলি থেকে বেরিয়ে আসছে
মাতাল, পাগল, সমাজবিদ, দার্শনিক, কর্পোরেট দালাল
কি আশ্চর্য সহাবস্থান !
এই বিগত যৌবনা হতশ্রী শহর প্রতি রাতে
ময়ূরের পালক গুঁজে, নিখুঁত রূপটানে
প্রকাশ্যে বিক্রি করে নিজেকে,
প্রবঞ্চনা করে নিজের সাথে।
পলকা মেঘে ছেয়ে যাওয়া আকাশ
কাঁদতে গিয়েও হেসে ফেলে,
তবু যদি কোনদিন ফেরো !
শিথিল গ্রন্থিতে কিছু মেঘ বৃষ্টি নিয়ে এসো
কেমন !
আমার শহর কাঁদতে শিখবে !