আলতাফ আলী হাসু ছিলেন বাংলাদেশ 'ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী' এর সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, গীতিকার ও ছড়াকার।
তাঁর লেখা 'ও সখিনা গেছস কিনা ভুইলা আমারে' আশির দশকে এদেশের সঙ্গীতভূবনে যথেষ্ট সাড়া জাগিয়েছিল।
জন্ম ১৯৫৩ সালে বগুড়ার উপকন্ঠের এক নিভৃত পল্লী পাটিতাপাড়ার এক সাধারণ কৃষক পরিবারে।
তিনি ছিলেন আমার বীর মুক্তিযোদ্ধা বড় দুই ভাইয়ের স্কুল জীবনের সহপাঠী। একসাথে পড়তেন বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী বাংলা স্কুলে। এরপর ৭১'র রণাঙ্গনের সহযোদ্ধা। পরবর্তীতে সাংস্কৃতিক জগতের পথসঙ্গী।
আমার বেশ মনে পড়ে শৈশবে স্কুল জীবনে একবার ওনার সাথে তাঁর গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম সবুজ শ্যামল ছায়া ঘেরা মেঠোপথের আল বেয়ে পায়ে হেঁটে। আমাদের পরিবারের সাথে ছিল তাঁর এক নিবিড় সম্পর্ক।
সেই ষাটের দশকের শেষ দিকে ঢাকায় তাঁর ওঠা বসা শুরু। ছাত্র ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। আলতাফ আলী হাসু ছিলেন সাংস্কৃতিক জগতের এক বিশেষ পরিচিত মুখ।
দেশের প্রখ্যাত গণসংগীত শিল্পী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কন্ঠযোদ্ধা ফকির আলমগীরের সাথে মিলে গঠন করেন 'ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী' নামের এক সাংস্কৃতিক সংগঠন। তিনি ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক।
জীবন জীবিকার জন্য পরবর্তীতে আইন পেশায় জড়িত হন। এরপর স্ত্রী মিনারা বেগমের সাথে বৈবাহিক জীবনের পথ চলা শুরু তাঁর। মাথা গোঁজার জন্য বহুকষ্টে ঠাঁই খুঁজে নেন রামপুরায়।
তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে 'ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী' প্রবর্তন করেছে 'আলতাফ আলী হাসু স্মৃতি পুরস্কার'। প্রতি বছর উত্তাল মার্চের সুবিধা মতো সময়ে দেশের গুনীজনদের মধ্যে থেকে নির্বাচিত একজনকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়ে থাকে।
২ মার্চ ২০০০ সালে তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। শ্রদ্ধাঞ্জলি।