সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬

কপিলমুনিতে হলুদ সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য বেড়ে চলেছে

  • কপিলমুনি (খুলনা) সংবাদদাতা
  • ২০২৩-০৭-৩০ ১৩:০৩:৩৮

পাইকগাছার কপিলমুনিতে দিন দিন বেড়েই চলেছে ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য। আর এইসব সাংবাদিকের ফাঁদে পড়ে হয়রানি শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের অভিযোগ, সাংবাদিক পরিচয়ে সংবাদ প্রকাশের কথা বলে অর্থ আদায়, দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করার হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি, মোটরসাইকেলে প্রেস বা সাংবাদিক লিখে মাদকের ব্যবসাও চালিয়ে যাচ্ছে অনেকে। আর প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে মূলধারার পেশাদার সাংবাদিকরা।
তবে স্থানীয়রা এই ভুয়া সাংবাদিকদের বিষয়ে মুখ খুললেও প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। কেননা প্রশাসনের কোন কোন কর্তাব্যক্তিরাই দুর্নীতির সাথে জড়িত আছে। প্রশাসনের এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে পইকগাছা উপজেলায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই ভুয়া সাংবাদিকরা। আর এতে বিপাকে পড়ছেন পেশাদার সাংবাদিকরা।
স্থানীয় প্রশাসনে ও প্রেসক্লাবের নেতৃবেন্দ হলুদ সাংবাদিকের বিরুদ্বে কোন পদক্ষেপ নেয় না। এতে করে পাইকগাছা উপজেলার সর্বত্র হলুদ সাংবাদিকের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। উপজেলায় মূলধারার পেশাদার সাংবাদিকের সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ জন হতে পারে। তবে বিভিন্ন অনলাইন, ফেইসবুক পেইজ, স্বঘোষিত নামধারী সাংবাদিক পরিচয়দানকারীর সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন পেশাদার সাংবাদিকেরা। এসব হলুদ সাংবাদিকদের কবলে পড়ে নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
উপজেলার আনাচে-কানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো জেগে উঠছে নামধারী হলুদ সাংবাদিক। যা নিয়ে সচেতন মহল এবং উপজেলার সুশীল সমাজ নানাভাবে সমালোচনা করছেন। সাংবাদিকতার মান নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার মূলধারার পেশাদার সাংবাদিকেরা।
উপজেলার একাধিক ভুক্তভোগীরা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, উপজেলায় একাধিক যুবক নিজেদের বিভিন্ন অনলাইন, ফেইজবুক পেইজ ও (আন্ডারগ্রাউন্ড) পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে রীতিমতো প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ঘোষণা দেয় ফেসবুকে পত্রিকায় চোখ রাখুন, অমুকের তমুকের নামে সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। তবে এসব হুমকির সংবাদ আলোর মুখ দেখে না কোন দিন। বিভিন্ন মাধ্যমে চাঁদা বাজিসহ সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্মও করে আসছে। এসব হলুদ সাংবাদিকরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করা সহ প্রকাশ্যে দল ও নেতাদের পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে বলেও জানান ভুক্তভোগীরা।
এই চক্রটি প্রেস কার্ড গলায় ঝুলিয়ে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয়ে সঙ্গবদ্ধভাবে গ্যাং সৃষ্টি করে চাঁদাবাজি ও মানুষকে জিম্মি করে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে প্রশাসন থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চরমভাবে বিভ্রান্তিতে পড়ছে। আবার কেহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক যারা কার্ড তৈডির করেছেন তারা কেহ নসিমন ইজিবাইক,মটর শ্রমিক চালক,নাপিত,,কুলিরা জড়িত। যারা কেহ জীবনে সংবাদ পত্রও পড়েনী অতচ সাংবাদিক কার্ড গলায় ঝুলিয়ে বাজারে বেড়াচ্ছে। কপিলমুনি প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি রেজাউল করিম মহব্বত বলেন একটা নিয়ম নীতি থাকা জরুরী,তারা আসুক কিন্তু সংবাদপত্র নিয়ে কাজ করে আসুক।
এছাড়াও স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, সাংবাদিক পরিচয়ে একটি চক্র প্রতিনিয়ত প্রেসকার্ড ব্যবহার করে ও গাড়িতে স্টিকার লাগিয়ে ঘোরাঘুরি করছে। তারা দল বেধে কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিসে গিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিভ্রান্ত ও কাজ হাসিল করছে। এতে সাধারণ মানুষ, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পেশাদার সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের সচেতন নাগরিকগণ বিভ্রান্ত হচ্ছে। পেশাদার সাংবাদিকদের লেখা প্রকাশিত নিউজ কপি করে  অনলাইন বা নামমাত্র পেইজে নিজের নামে প্রচার করছে। সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজি, মোবাইল ফোনে হুমকি, অবৈধ ব্যবসা ও বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। অক্ষত পত্রিকার বিখ্যাত সাংবাদিকদের ব্যপারে পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি এফএম এ রাজ্জাক বলেন সাংবাদিক হতে হলে তার পত্রিকা এবং প্রেসক্লাবের সহিত যোগাযোগ রাখতে হয়। অনেকেই আবার  তারা মানবাধিকার সাংবাদিক নামে নিজেরাই কার্ড তৈরি করে অনুষ্টান করছে মাঝে মধ্যে। এ ব্যপারে পাইকগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার ইকবল মন্টু বলেন হঠাৎ করে আমাকে সালাম দিয়ে সাংবাদিক নাম বলে পরিচয় দেয়,অতচ আমি তাকে চিনি না। তিনি আরও বলেন কবে কখন যে কে সাংবাদিক হয় তা বলা মুশকিল। 

 


এ জাতীয় আরো খবর